ব্রেকিং
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়নের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসৌদি আরবের ইসরায়েল স্বীকৃতির সম্ভাবনা বাড়ার দাবি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণনিউইয়র্কে ২৪ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট, ৩ নভেম্বর নির্ধারিত হবে নির্বাচনের ভাগ্যসাভারে সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে হোকুল-ব্লেকম্যানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

সমাবেশে বিক্ষোভকারীকে বের করে ২৫০ ডলার পাওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের

কেনটাকিতে নির্বাচনী সমাবেশে বাধার মুখে পড়লেন ট্রাম্প। এক বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে ২৫০ ডলার দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তবে প্রমাণ দেননি।

সমাবেশে বিক্ষোভকারীকে বের করে ২৫০ ডলার পাওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের
সমাবেশে বিক্ষোভকারীকে বের করে ২৫০ ডলার পাওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের সমাবেশে এক বিক্ষোভকারীকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, হাইল্যান্ড হাইটস শহরের ট্রুইস্ট অ্যারেনায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি প্রতিবাদ জানালে তাঁকে নিরাপত্তাকর্মীরা বাইরে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য বিক্ষোভকারীদের ২৫০ ডলার করে দেওয়া হয়। তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার জোরদার করছে। কেনটাকির সমাবেশে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী বাধা সৃষ্টি করলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা ওই ব্যক্তিকে সমাবেশস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নেওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁকে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। এরপর তিনি দাবি করেন, এ ধরনের প্রতিবাদকারীরা অর্থের বিনিময়ে তাঁর সমাবেশে বাধা দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের প্রত্যেককে ২৫০ ডলার দেওয়া হয়। তবে ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সত্যিই কেউ অর্থ দিয়েছিলেন কি না, কে অর্থ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে তিনি যাচাইযোগ্য তথ্য দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও ট্রাম্পের অভিযোগের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির একটি অংশ সরাসরি প্রত্যক্ষ করা গেলেও বিক্ষোভকারীর অর্থ পাওয়ার বিষয়টি এখনো একটি অপ্রমাণিত দাবি। শুধু প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে প্রতিবাদকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

কেনটাকির এই সমাবেশে ট্রাম্পের উপস্থিতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন বাড়ানো। তিনি প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী এড গ্যালরেইনসহ রিপাবলিকান নেতাদের সমর্থনে বক্তব্য দেন। সমাবেশে নির্বাচনী রাজনীতি, তাঁর প্রশাসনের ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়েও আলোচনা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীর ঘটনাটি তাঁর বক্তব্যের আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হলে সরকারের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে ট্রাম্প রিপাবলিকান ভোটারদের সক্রিয় করতে এবং দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থন ধরে রাখতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সমাবেশ করছেন।

রাজনৈতিক সমাবেশে প্রতিবাদ নতুন ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্য চলাকালে বিরোধী মতের মানুষ স্লোগান, প্রশ্ন কিংবা অন্যান্য উপায়ে আপত্তি জানিয়ে থাকেন। কোনো সমাবেশে নিরাপত্তার কারণে কাউকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে কেউ প্রতিবাদ করেছেন বলেই তিনি অর্থের বিনিময়ে তা করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

ট্রাম্পের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ও প্রতিবেদনে উঠে এলেও তাঁকে ২৫০ ডলার দেওয়া হয়েছিল—এমন তথ্য যাচাই করার মতো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি সত্য কি না, তা নির্ধারণের জন্য অর্থ লেনদেনের নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন হবে।

এ ঘটনা নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজনৈতিক বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য দ্রুত সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কোনো বক্তব্য আলোচিত হলেই সেটি প্রমাণিত সত্য হয়ে যায় না। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠলে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।

কেনটাকির সমাবেশে বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিশ্চিতভাবে সংবাদে এসেছে। ট্রাম্পও ওই ব্যক্তিকে ২৫০ ডলার দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে অর্থ পাওয়ার দাবিটি প্রমাণিত নয়। তাই ঘটনাটির সংবাদমূলক গুরুত্ব রয়েছে মূলত নির্বাচনী সমাবেশে প্রতিবাদ, ট্রাম্পের অভিযোগ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিকেনটাকিমার্কিননির্বাচনবিক্ষোভকারীনির্বাচনীপ্রচার

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।