ব্রেকিং
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়নের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসৌদি আরবের ইসরায়েল স্বীকৃতির সম্ভাবনা বাড়ার দাবি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণনিউইয়র্কে ২৪ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট, ৩ নভেম্বর নির্ধারিত হবে নির্বাচনের ভাগ্যসাভারে সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে হোকুল-ব্লেকম্যানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনায় ট্রাম্প, সামনে মার্কিন নির্বাচনের লড়াই

পুরোনো বাণিজ্য চুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের চাকরি হারানোর বিষয় তুলে ধরে ডেমোক্র্যাটদের নীতির সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনায় ট্রাম্প, সামনে মার্কিন নির্বাচনের লড়াই
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনায় ট্রাম্প, সামনে মার্কিন নির্বাচনের লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, উৎপাদনশিল্পের কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক প্রত্যাশা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো, ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং ভালো বেতনের চাকরি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান কমেছে বলে তিনি দাবি করে থাকেন।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যে বাণিজ্য চুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাঁর মতে, বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অন্য দেশে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়ানো, মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা সম্ভব।

বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব নীতির কারণে কিছু মার্কিন কোম্পানি উৎপাদন কার্যক্রম বিদেশে সরিয়ে নেয় এবং অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে উৎপাদনশিল্পে চাকরি কমে যাওয়ার পেছনে শুধু বাণিজ্য চুক্তিই দায়ী নয়। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থা, ভোক্তাদের চাহিদার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদনশিল্পের চাকরি হারানো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। দীর্ঘদিন ধরে কারখানানির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল বহু এলাকার বাসিন্দাদের কাছে স্থায়ী চাকরি, ভালো বেতন এবং পরিবারের ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব এলাকার ভোটারদের সমর্থন পেতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলই কর্মসংস্থান, মজুরি এবং শিল্পোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো, তাঁরা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও অর্থনৈতিক নীতির বাস্তব ফল সব সময় সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলেনি। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্কের ফলে আমদানিনির্ভর ব্যবসার খরচ বাড়তে পারে এবং সেই ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপর গিয়ে পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় বিষয়টি আরও জটিল। কোনো বাণিজ্য চুক্তি কর্মসংস্থানের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট শিল্প, সময়কাল, উৎপাদনব্যবস্থা এবং ভোক্তাদের আচরণের ওপর। কিছু শিল্পে বিদেশি প্রতিযোগিতার কারণে চাকরি কমতে পারে, আবার অন্য শিল্পে সস্তা কাঁচামাল, রপ্তানির সুযোগ এবং বৃহত্তর বাজারের সুবিধায় নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে। ফলে শুধু একটি নীতি বা একটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে চাকরি হারানোর পুরো ইতিহাস ব্যাখ্যা করা যায় না।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যনীতি মার্কিন রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ভোটারদের কাছে কোন দল বাস্তবসম্মতভাবে আয় বাড়াতে, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে সাহায্য করতে পারবে—সেই প্রশ্ন নির্বাচনী বিতর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা তাঁদের বাণিজ্যনীতি এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাকে সামনে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেও কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের অধিকার এবং সাধারণ পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে।

বাণিজ্য চুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কেরই অংশ। তবে তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগকে যাচাই করা তথ্য থেকে আলাদা করে দেখা জরুরি। কোন চুক্তির ফলে কতটি চাকরি হারিয়েছে, কোন নীতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং এসব পরিবর্তনের পেছনে অন্য কী কারণ কাজ করেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে সরকারি কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গবেষণার ওপর।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিডেমোক্র্যাটবাণিজ্যনীতকর্মসংস্থানমার্কিননির্বাচন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।