যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে।" মাঠে নেমে সরাসরি তদারকিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সভাকক্ষ ছেড়ে মাঠে নেমেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। "যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে", এই বার্তায় রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ধারাবাহিক উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ
এ বছর ডেঙ্গু প্রতিরোধ, খাল পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের তৎপরতার কেন্দ্রে ছিলেন মীর শাহে আলম। আজকের সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই সম্প্রসারিত রূপ:
- এপ্রিল: জলাবদ্ধতা নিরসনে জিয়া সরণি খাল পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ শুরু; প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
- জুন: খাল পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে সীমানা চিহ্নিত করতে দুই সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে দুটি পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত। পরীক্ষামূলকভাবে বাইশটেকি খাল ও কল্যাণপুরের জলাধার উন্নয়নের উদ্যোগ।
- জুন: মশাবাহিত রোগ ঠেকাতে তাঁর তত্ত্বাবধানে টাস্কফোর্স গঠন; গুলশানে মশক নিধন অভিযানে অংশগ্রহণ।
- সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডেঙ্গু মোকাবিলা সভায় প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ। এরপর তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ধানমন্ডিতে কার্যক্রম পরিদর্শন করে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে।
আজকের সিদ্ধান্তসমূহ
১. ২০টি বিশেষ জোনাল কমিটি: ঢাকা উত্তরে ১০টি ও দক্ষিণে ১০টি, প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ভিত্তিক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দেবেন।
২. বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণ: কমিটিতে থাকবেন স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল উইং ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। আইনি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কমিটির সঙ্গে থাকবেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
৩. মূল মনিটরিং কমিটি: ২০টি কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত হবে উচ্চপর্যায়ের মূল মনিটরিং কমিটি। এতে থাকবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি ও যুগ্মসচিব, সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ঢাকা ওয়াসা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৪. মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম: কমিটিগুলো সরেজমিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও খনন জোরদার এবং মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে।
নীতিনির্ধারণ থেকে মাঠ পর্যন্ত জবাবদিহি
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, সভার সিদ্ধান্তের প্রতিফলন থাকতে হবে মাঠে। নতুন জোনভিত্তিক কাঠামো সেই নির্দেশনারই প্রতিফলন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি নেতৃত্ব, একাধিক সংস্থার সমন্বয় এবং আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ শহীদুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





