যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
ঋণের সুদ পরিশোধে রেকর্ড ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির খরচ বৃদ্ধি এবং শুল্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি বেড়ে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে দেশটির ২০২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরে সরকারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। আগের অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ১ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ২১৭ বিলিয়ন ডলার। রয়টার্স ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২১ অর্থবছরের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বার্ষিক বাজেট ঘাটতি। ইতিহাসের হিসাবেও এটি তৃতীয় বৃহত্তম ঘাটতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি ছিল প্রথম পূর্ণ অর্থবছর।
সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধ। ২০২৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়ে রেকর্ড ১ দশমিক ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। দেশটির মোট সরকারি ঋণও ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের মতো কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ঘাটতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। অর্থবছরটিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়ে ৯১৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের মোট রাজস্বও বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে সরকারের আয় ছিল ৫ দশমিক ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। তবে মোট ব্যয় বেড়ে ৭ দশমিক ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি আরও বড় হয়েছে।
শুল্কসংক্রান্ত অর্থ ফেরত দেওয়াও ঘাটতি বৃদ্ধির একটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত কিছু শুল্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে অর্থবছরটিতে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং নিট শুল্ক আয় কমেছে।
এই ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য কী অর্থ বহন করে? বাজেট ঘাটতি বাড়লেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে, এমন নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ বাজেট এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের ভবিষ্যৎ নীতির ওপরও এর প্রভাব নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সহায়তা এবং করনীতির ভবিষ্যৎ পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তবে এই বাজেট ঘাটতির কারণে এসব সুবিধা কমানো হবে বা কর বাড়ানো হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত করা যায় না।





