ব্রেকিং
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়নের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসৌদি আরবের ইসরায়েল স্বীকৃতির সম্ভাবনা বাড়ার দাবি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণনিউইয়র্কে ২৪ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট, ৩ নভেম্বর নির্ধারিত হবে নির্বাচনের ভাগ্যসাভারে সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে হোকুল-ব্লেকম্যানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ ভিসা প্রত্যাখ্যান, উদ্বেগে উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশীরা

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বড় ধাক্কা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রত্যাখ্যান হয়েছে। আর্থিক নথিতে জালিয়াতি, একই ব্যাংক হিসাবের তথ্য একাধিক আবেদনে ব্যবহার এবং শিক্ষা এজেন্টদের অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে যাচাই-বাছাইয়ের কঠোরতায় প্রকৃত শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অভিবাসন পরামর্শকেরা।

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ ভিসা প্রত্যাখ্যান, উদ্বেগে উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশীরা
নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ ভিসা প্রত্যাখ্যান, উদ্বেগে উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশীরা

নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম রেডিও নিউজিল্যান্ডের (আরএনজেড) ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রায় ৭০ শতাংশ স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৩৯ শতাংশ।

ওই তিন মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পূর্ণ টিউশন ফি দিয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মোট ৬ হাজার ২৭৩টি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অথচ ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসে এ ধরনের প্রত্যাখ্যাত আবেদনের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫০৩। অর্থাৎ মাত্র এক প্রান্তিকে প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা আগের পুরো অর্থবছরের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সব দেশের পূর্ণ ফি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের আবেদন বিবেচনায় প্রত্যাখ্যানের হার আগের অর্থবছরের ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসার কিছু আবেদন, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহীদের আবেদন, আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনপত্রে জাল, পরিবর্তিত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহারের ঘটনা বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একই আর্থিক নথি একাধিক আবেদনকারীর জন্য পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ভারত, নেপাল, নাইজেরিয়া ও চীনের আবেদনেও জালিয়াতি বা ভুল তথ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ পাওয়া গেছে।

আরএনজেডের প্রতিবেদনে অভিবাসন পরামর্শকদের বরাতে বলা হয়েছে, কিছু শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মূল প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করা উপ-এজেন্টদের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু উপ-এজেন্ট শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক সামর্থ্য যাচাই না করে অন্যের ব্যাংক হিসাব, পরিবর্তিত বিবরণী কিংবা পুনর্ব্যবহৃত আর্থিক নথি জমা দিয়েছেন। এতে প্রকৃত অর্থের উৎস ও অর্থ শিক্ষার্থীর ব্যবহারের জন্য সত্যিই সহজলভ্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের অর্থ এই নয় যে প্রত্যাখ্যাত প্রত্যেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন জালিয়াতিপূর্ণ ছিল। অভিবাসন পরামর্শকদের আশঙ্কা, জাল নথি শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে যেসব শিক্ষার্থীর আর্থিক সামর্থ্য ও পড়াশোনার পরিকল্পনা সত্য, তাঁদের আবেদনও বাড়তি সন্দেহের মুখে পড়তে পারে। প্রকৃত আবেদনকারীদের জন্য এ পরিস্থিতি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয়তা নির্বিশেষে সব আবেদন একই অভিবাসন শর্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে আলাদা বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগও কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, কিছু আবেদন যাচাইয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং আবেদনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ৪ হাজারটি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং অনুমোদনের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যানটি নয় মাসের নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের হিসাব; জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ৭০ শতাংশ প্রত্যাখ্যানের হারটি আলাদা সময়সীমার প্রতিবেদন। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ও সিদ্ধান্ত দেওয়ার তারিখ এক নাও হতে পারে—তাই দুটি পরিসংখ্যানকে একই সময়ের হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

নিউজিল্যান্ডে পড়তে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতিতে আবেদনপত্রের প্রতিটি তথ্য যাচাই করা জরুরি। ব্যাংক বিবরণী, স্থায়ী আমানত, অর্থের উৎস, স্পনসরের আয় ও সম্পর্কের প্রমাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র অবশ্যই সত্য, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেওয়া নথি নিজে পরীক্ষা করা এবং কোনোভাবেই ভুয়া বা অন্যের আর্থিক নথি ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ: নিউজিল্যান্ডবাংলাদেশিশিক্ষার্থীশিক্ষার্থীভিসাভিসাপ্রত্যাখ্যানউচ্চশিক্ষাবিদেশেশিক্ষাঅভিবাসনশিক্ষাখবর

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।