অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে হোকুল-ব্লেকম্যানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
নভেম্বরের ভোট সামনে রেখে নিউইয়র্কে গভর্নর পদে হোকুল ও ব্লেকম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর, জ্বালানি ও অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ২০২৬ সালের গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথি হোকুল এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যানের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই পক্ষই ভোটারদের সমর্থন আদায়ে নিজেদের নীতি, পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, করের বোঝা, বিদ্যুতের মূল্য, জ্বালানি নীতি, অভিবাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নির্বাচনী বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারকে সমর্থনকারী একটি রাজনৈতিক তহবিলে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা হয়েছে। গ্রেটার এম্পায়ার স্টেট নামের তহবিলটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ থেকে অক্টোবরের ২ তারিখ পর্যন্ত চার দশমিক তিন মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দাতাদের মধ্যে সাবেক নিউইয়র্ক সিটি মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের নামও রয়েছে। তহবিলটি ব্লেকম্যানের সমালোচনা করে প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন চালিয়েছে। তবে এই অর্থায়ন একাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বর্তমান গভর্নর হোকুল নির্বাচনী প্রচারে নিজের প্রশাসনের কাজ, করদাতাদের জন্য স্বস্তির উদ্যোগ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। তাঁর প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য হলো পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো এবং অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। শিশুদের জন্য করছাড় এবং আয়করের কিছু ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ছাড় দেওয়ার মতো বিষয়ও তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ব্লেকম্যান জীবনযাত্রার ব্যয়, উচ্চ কর এবং বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে হোকুল প্রশাসনের সমালোচনা করছেন। তিনি কর কমানো, জ্বালানি খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার পক্ষেও তিনি অবস্থান নিয়েছেন। তবে এসব প্রতিশ্রুতির অনেকগুলো বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্যের আইনসভাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। হোকুলের সমর্থকেরা ব্লেকম্যানের সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ব্লেকম্যান হোকুলের প্রশাসনের নীতি, কর এবং জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ফলে নির্বাচনটি শুধু দুই প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নেই; অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির দিকনির্দেশ নিয়েও ভোটারদের সামনে ভিন্ন দুটি অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে।
১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দুই প্রার্থীর টেলিভিশন বিতর্কেও এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, জননিরাপত্তা, জ্বালানির মূল্য এবং রাজনৈতিক মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ পায়। বিতর্কের পর বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন একরকম ছিল না। কেউ ব্লেকম্যানের আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে কার্যকর মনে করেছেন, আবার কেউ হোকুলের নীতিগত ব্যাখ্যা ও পাল্টা জবাবকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই ওই বিতর্কের ভিত্তিতে নির্বাচনের গতিপথ নিশ্চিতভাবে বদলে গেছে বলে দাবি করা যায় না।
জরিপের ফলাফলও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অক্টোবরে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে হোকুলকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও সমর্থনের ব্যবধান সব জরিপে এক নয়। কোনো জরিপে ব্যবধান তুলনামূলক কম দেখা গেলে সেটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে জরিপের নমুনা, তথ্য সংগ্রহের সময় এবং ত্রুটিসীমা বিবেচনা না করে কোনো প্রার্থী নিশ্চিতভাবে জিতবেন বলে বলা ঠিক হবে না। বিশেষ করে স্বাধীন ও অনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের ভোটারদের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউইয়র্কের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর ২০২৬। অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগাম ভোট চলবে ২৪ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ফলে ১৮ অক্টোবরের হিসাবে ভোটারদের হাতে আগাম ভোট শুরুর আগে আরও কয়েক দিন রয়েছে। ভোটার নিবন্ধন, ভোটকেন্দ্র, ডাকযোগে ব্যালট এবং ভোট দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে সরকারি নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসরণ করা জরুরি।
এই নির্বাচনের গুরুত্ব গভর্নর পদে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। করনীতি, আবাসন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নির্বাচিত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অঙ্গরাজ্যের বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফল জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে, কারণ ২০২৬ সাল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছর।
১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে প্রচার, অর্থায়ন, জরিপ এবং নীতিগত বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে ভোটগ্রহণ এখনো হয়নি। তাই কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা বা নির্বাচনের ফল নিশ্চিত বলে প্রচার করা তথ্যসম্মত হবে না। ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে।





