ব্রেকিং
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়নের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসৌদি আরবের ইসরায়েল স্বীকৃতির সম্ভাবনা বাড়ার দাবি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণনিউইয়র্কে ২৪ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট, ৩ নভেম্বর নির্ধারিত হবে নির্বাচনের ভাগ্যসাভারে সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে হোকুল-ব্লেকম্যানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

ইরান যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানির বাড়তি দাম ও অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন ভোটাররা। জবাবে ভুলের কথা স্বীকারের পাশাপাশি প্রশাসনের নীতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধের কৌশল, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অভিবাসন নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সিবিএস নিউজে সম্প্রচারিত এক বিশেষ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তাঁকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে জবাব দিতে হয়। আলোচনায় এমন কয়েকজন অংশ নেন, যাঁরা অতীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে সমর্থন করেছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সবচেয়ে আবেগপূর্ণ প্রশ্নটি তোলেন জোয়ি আমর। ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতে নিহত মার্কিন সেনা মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল আমরের স্বামী তিনি। তাঁর স্ত্রীসহ ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় নেতৃত্বের ব্যর্থতা, সেনাদের অবস্থান নির্ধারণে ভুল এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর দায় নিয়ে তিনি ভ্যান্সের কাছে ব্যাখ্যা চান।

জবাবে ভ্যান্স বলেন, ওই ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে পৌঁছায় না। পরে তিনি স্বীকার করেন, সেনাদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু ভুল হয়েছিল এবং সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিহত সেনাদের পরিবারের উদ্বেগের বিষয়ে আরও জানার জন্য তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও প্রকাশ করেন।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; জ্বালানি বাজারেও এর চাপ পড়ছে। অনুষ্ঠানে মিশিগানের এক ভোটার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের উচ্চমূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই ভোটার জানান, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে সমর্থন করলেও এখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার দায় প্রশাসন কীভাবে নেবে।

ভ্যান্স স্বীকার করেন, পেট্রলের দাম অনেক বেশি এবং তা কমানোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে আনেন। তবে সমালোচকেরা মনে করছেন, বর্তমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ প্রশাসনের নেই। এ নিয়ে অনুষ্ঠানে ভ্যান্সকে পাল্টা প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়।

অভিবাসন নীতিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাথলিক ধর্মযাজক সিস্টার ন্যান্সি সিলভেস্টার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তাদের কঠোর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযানের সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা এবং অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানতে চান, এসব পদক্ষেপ কীভাবে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

ভ্যান্স বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইন কার্যকর রাখা সরকারের দায়িত্ব, তবে দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তাদের ভুল হলে তা তদন্ত ও সংশোধন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই আলোচনায় এইচ-১বি কর্মভিসা নিয়েও ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়। এক ভোটার তাঁর আগের বক্তব্যের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, অভিবাসীদের সমস্যার জন্য দায়ী করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে ভ্যান্স স্বীকার করেন, তাঁর বক্তব্যের ভাষা আরও যথাযথ হতে পারত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তাঁর সমালোচনার লক্ষ্য অভিবাসী কর্মীরা নন; বরং এমন কিছু প্রতিষ্ঠান, যারা কর্মভিসার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মী ও মার্কিন কর্মী—উভয়ের অধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটারেরা। একটি পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্রের মালিক স্যান্ডি জনসন জানান, তাঁর ব্যবসা চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ কখন অতিরিক্ত অর্থ হাতে পাবেন এবং ছোট ব্যবসায় খরচ করার মতো আর্থিক সামর্থ্য ফিরে পাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, অর্থনীতির সমস্যাগুলো এক মেয়াদে তৈরি হয়নি এবং সেগুলো সমাধান করতেও সময় লাগবে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়া এবং ভালো বেতনের চাকরি বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশে কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এসব উদ্যোগের সুফল কত দ্রুত পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সিবিএসের সঞ্চালক টনি ডোকুপিল প্রেসিডেন্টের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে আয় এবং প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের কাছে জানতে চান। ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পক্ষে তিনি নিজে কোনো প্রমাণ দেখেননি। তবে তিনি এটাও বলেন, কেউ যদি হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বিক্রি করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন, তাহলে তা নিন্দনীয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে ভ্যান্স আরও বলেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগের জবাব দেওয়া।

সিবিএসের এই প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানির দাম, অভিবাসন অভিযান এবং অর্থনৈতিক চাপ—এসব বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা শুনলেও অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এসব ইস্যু রিপাবলিকানদের জন্য কতটা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ: জেডিভ্যান্সযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিইরানযুদ্ধঅভিবাসননীতিজীবনযাত্রারব্যয়

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।