ব্রেকিং
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়নের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসৌদি আরবের ইসরায়েল স্বীকৃতির সম্ভাবনা বাড়ার দাবি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণনিউইয়র্কে ২৪ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট, ৩ নভেম্বর নির্ধারিত হবে নির্বাচনের ভাগ্যসাভারে সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে হোকুল-ব্লেকম্যানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩৩ শতাংশে, নতুন জরিপে বাড়ছে অসন্তোষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে। নতুন জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩৩ শতাংশে, নতুন জরিপে বাড়ছে অসন্তোষ
ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩৩ শতাংশে, নতুন জরিপে বাড়ছে অসন্তোষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৫২ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছেন।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নতুন জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থনের পাশাপাশি কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্রও উঠে এসেছে। নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টের নীতি ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের মনোভাব রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ, জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটরা আট শতাংশের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই ফলাফল দিয়ে সব নির্বাচনী আসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। স্থানীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, ভোটারদের উপস্থিতি এবং প্রতিটি এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে বলে জরিপের ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, বাসাভাড়া এবং জ্বালানির ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। জরিপে ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁদের কাছে পেট্রলের দাম বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ২৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে মুদিপণ্যের দামও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাস্থ্যসেবার খরচকে অসহনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। বাড়ির জ্বালানি ও অন্যান্য পরিষেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে, অর্ধেক উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁদের কাছে বাড়িভাড়া অথবা গৃহঋণের কিস্তি বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের মনোভাব নেতিবাচক। জরিপে ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। প্রায় ৪৮ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্প ২০২৫ সালে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় বর্তমানে তাঁরা আর্থিকভাবে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। পাশাপাশি ৭২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষও উল্লেখযোগ্য। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকার প্রতি মাত্র ২১ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন, বিপরীতে ৭৭ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তাঁর কাজকে সমর্থন করেছেন ২৩ শতাংশ এবং অসন্তোষ জানিয়েছেন ৭৫ শতাংশ। সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, শুধু সামগ্রিক জনসমর্থন নয়, অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও তাঁর প্রশাসন চাপের মুখে রয়েছে।

ইরান যুদ্ধও জনমতকে প্রভাবিত করছে। জরিপে ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করেছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং পেট্রলের দাম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ পরিবারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষকে আরও তীব্র করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

তবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমানভাবে কমেনি। জরিপে রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন মাত্র ২২ শতাংশ এবং অসন্তোষের হার ৭৬ শতাংশ। এই ব্যবধান থেকে বোঝা যায়, নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও দলনিরপেক্ষ ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের যৌথ জরিপটি ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৫৪৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। জরিপের সামগ্রিক ফলাফলে ভুলের সম্ভাব্য সীমা প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট। তাই জরিপের ফলাফলকে জনমতের একটি চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে নয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মনোভাব রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জনসমর্থনের এই নিম্নমুখী চিত্র নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিজনসমর্থনমার্কিননির্বাচনরাজনৈতিকজরিপ

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।