নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযান ঠেকাতে ব্যক্তিগত গ্যারেজ মালিকদের আহ্বান মামদানি ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। আইসিইর অভিযানে ব্যক্তিগত গ্যারেজ ও পার্কিং লট ব্যবহার না করতে মালিকদের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি ও ডেমোক্র্যাট নেতারা।
নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ব্যক্তিগত পার্কিং গ্যারেজ ও গাড়ি রাখার স্থানগুলোকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসসহ শতাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁরা শহরের বিভিন্ন এলাকার ব্যক্তিগত গ্যারেজ ও পার্কিং লটের মালিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের মার্বেল হিল এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। ২৮ বছর বয়সী ডোমিনিকান নাগরিক অস্কার বেলগাল একটি গাড়িতে ছিলেন। তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও গাড়ির ভেতরে ছিল। অভিযানের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে বেলগাল ঘাড়ে আঘাত পান। ঘটনাটি সামনে আসার পর শহরে প্রতিবাদ শুরু হয় এবং অভিবাসন অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
নিউইয়র্কের মেয়রের কার্যালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিযানের আগে কাছাকাছি একটি ব্যক্তিগত পার্কিং লটকে কর্মকর্তাদের অবস্থান নেওয়ার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণেই মামদানি ও তাঁর সঙ্গে থাকা জনপ্রতিনিধিরা শুধু সরকারি সম্পত্তি নয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন গ্যারেজগুলোর ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনো আবাসিক এলাকার কাছাকাছি পার্কিং লটকে অভিযান পরিচালনার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তবে ওই পার্কিং লটের মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি সরকারি বিবরণে করা হয়নি।
১৬ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে জনপ্রতিনিধিরা পার্কিং লট ও গ্যারেজের মালিকদের অনুরোধ করেছেন, তাঁরা যেন মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসকে (আইসিই) অভিযান পরিচালনার জন্য তাঁদের সম্পত্তি ভাড়া না দেন, ধার না দেন কিংবা অন্য কোনোভাবে ব্যবহারের সুযোগ না দেন। পাশাপাশি, নিজেদের সম্পত্তি এ কাজে ব্যবহারের অনুমতি নেই—সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে বলেছেন তাঁরা। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, এই আহ্বান এক হাজারেরও বেশি মালিক ও পরিচালনাকারীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি সম্পত্তিকে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে শহরের নিজস্ব আইন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিটি গ্যারেজের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। এ কারণে বর্তমান উদ্যোগটি মূলত ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকদের প্রতি রাজনৈতিক ও নাগরিক আহ্বান। এটিকে নিউইয়র্কের সব ব্যক্তিগত পার্কিং গ্যারেজে আইসিইর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া নতুন আইন হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই আহ্বানের সমালোচনা করেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ। বেলগালের ঘটনায় ফেডারেল কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাঁরা নিজেদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন এবং গাড়িটি সরকারি যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা লাগানোর পর গুলি চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের স্থানীয় নেতারা অভিযানের পদ্ধতি এবং গাড়িতে একটি শিশু থাকা অবস্থায় গুলি চালানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ঘটনাটির বিবরণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
এই বিরোধ নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মেয়রের কার্যালয়ের হিসাবে, শহরটির ৩১ লাখের বেশি বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। শহরের মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪৩ শতাংশ অভিবাসী। রেস্তোরাঁ, দোকান, নির্মাণ, হাসপাতাল ও ছোট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান রয়েছে। অভিবাসন অভিযান নিয়ে ভয় ছড়ালে কর্মস্থলে যাওয়া, সন্তানদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন হতে পারে বলে শহর কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও খবরটি প্রাসঙ্গিক। তবে এই আহ্বানকে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনো অভিযান বা বাংলাদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই। এটি শহরে ফেডারেল অভিবাসন অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যবহার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ। যাঁদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি উদ্বেগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসমর্থিত পোস্টের পরিবর্তে সরকারি ঘোষণা ও যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শের ওপর নির্ভর করা উচিত।





