যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের বড় ধাক্কা, বসবাসের মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমল
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে শরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের বসবাসের আইনি মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সময়সীমা কমিয়ে দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নীতি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শরণার্থীদের তাঁদের মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে আগের ৩০ দিনের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিন সময় দেওয়া হবে। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীতিটি ১৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া বহু মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, শরণার্থী কর্মসূচিতে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং যাঁরা শরণার্থী মর্যাদার যোগ্য নন বলে বিবেচিত হবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া এই নীতির উদ্দেশ্য। প্রশাসনের নথিতে আগের যাচাইপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া এবং আপত্তি প্রস্তুত করা অনেকের জন্য কঠিন হবে।
নতুন নীতিটি বিশেষভাবে জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা শরণার্থীদের পর্যালোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সময়ে ভর্তি হওয়া শরণার্থীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার আবেদন পর্যালোচনা করছে। এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হিসেবে প্রশাসন যাচাইপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বা সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থী হওয়া একই আইনি প্রক্রিয়া নয়। শরণার্থীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সুরক্ষা পাওয়ার পর দেশটিতে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বা সীমান্তে সুরক্ষা চান। নতুন নীতির প্রতিটি বিধান কোন শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ব্যক্তিগত মামলার ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।
শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, ১০ দিনের সময়সীমার কারণে কেউ কেউ যথাযথ আইনি সহায়তা নেওয়ার আগেই আপত্তি জানানোর সুযোগ হারাতে পারেন। যুদ্ধ, রাজনৈতিক নিপীড়ন বা নির্যাতনের ভয় থেকে পালিয়ে আসা মানুষের অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা কঠিন। ভাষাগত বাধা, আইনজীবীর খরচ এবং সরকারি চিঠি বুঝতে না পারার সমস্যাও তাঁদের জন্য বড় বাধা হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান হলো, শরণার্থী কর্মসূচিতে যোগ্যতা যাচাই করা সরকারের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি শরণার্থী মর্যাদার শর্ত পূরণ না করলে তাঁর আবেদন বা অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় কী ধরনের নোটিশ দিতে হবে, আপত্তির সুযোগ কতটা কার্যকর হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি অধিকার কী—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব শরণার্থীর বসবাসের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সময় কমানো হচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য কি না, তা তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি, প্রবেশের সময়, মামলার ধরন এবং সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি জানা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে কেউ শরণার্থী কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসে থাকলে সরকারি চিঠি ও নোটিশ অবহেলা না করা, নির্ধারিত সময়সীমা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তা সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ পোস্ট দেখে নিজের আইনি অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়।





