ব্রেকিং
অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালুর সুপারিশে আপত্তি, জবাবদিহি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কযুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে, পেট্রলের দাম এক মাসে বেড়েছে ৯.১ শতাংশসাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্তসাহায্য চাওয়ার ছলে প্রবীণদের গয়না চুরি, চার অঙ্গরাজ্যে অভিযুক্ত রোমানীয় দম্পতিজেএফকে বিমানবন্দরে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, তীব্র নিন্দা জানালেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভী

বুয়েটের ডিগ্রি ও বিসিএসের সুযোগ ছেড়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন শিক্ষক নায়লা শারাফ

বুয়েট থেকে পড়াশোনা, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া—সবকিছুর পরও শিশুদের শিক্ষাদানকে জীবনের লক্ষ্য করেছেন নায়লা শারাফ। তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন আলোচনায়।

বুয়েটের ডিগ্রি ও বিসিএসের সুযোগ ছেড়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন শিক্ষক নায়লা শারাফ
বুয়েটের ডিগ্রি ও বিসিএসের সুযোগ ছেড়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন শিক্ষক নায়লা শারাফ

উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত পেশায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন নায়লা শারাফ। প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যাংকেও কাজ করেছেন তিনি। এমনকি ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রচলিত সরকারি চাকরির পথ অনুসরণ না করে বেছে নেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। শিশুদের শেখানো, তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাকে সহজ করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাঁর এই পথচলা।

নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাত বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন নায়লা শারাফ। তাঁর কাছে শিক্ষকতা কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নয়; বরং শিশুদের মধ্যে শেখার আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদের চিন্তা ও দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করাও এই পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যেই তিনি প্রচলিত পাঠদানের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তৈরি করেন এবং পাঠকে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত করেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শেখার ভিত্তি তৈরি হয়। এই সময়ে কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে অনেক শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সহায়ক পরিবেশের অভাব শেখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। নায়লা শারাফ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিশুদের উপযোগী করে পাঠদানের উপকরণ তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর চেষ্টা, শিক্ষার্থীরা যেন শুধু মুখস্থনির্ভর না হয়ে বিষয়গুলো বুঝে শিখতে পারে এবং আনন্দের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রমে অংশ নেয়।

তাঁর পেশাগত জীবনও বেশ ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে জনতা ব্যাংকেও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পথ বেছে নেন। প্রচলিত অর্থে প্রতিষ্ঠিত চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত তাঁর কর্মজীবনকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

সম্প্রতি নায়লা শারাফের এই উদ্যোগ ও শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁর পাশাপাশি সমাজের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া আরও দুই ব্যক্তিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। তাঁদের একজন নরসিংদীতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং অন্যজন ভোলায় দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কাজ ও অভিজ্ঞতার কথা শোনেন এবং তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। নায়লা শারাফের ক্ষেত্রে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

নায়লা শারাফের এই পথচলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—সাফল্য কেবল বড় পদ, উচ্চ বেতন কিংবা পরিচিত প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মধ্যেও সাফল্যের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। শিশুদের শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজটি হয়তো সব সময় বড় পরিসরে দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে একটি সমাজের ভবিষ্যৎ গঠনে এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের বয়স, বোঝার ক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান করা গেলে তারা বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সৃজনশীল শিক্ষা উপকরণ, সহজ ব্যাখ্যা এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী সহায়ক হতে পারে। নায়লা শারাফের উদ্যোগ দেখায়, একজন শিক্ষক নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রম দিয়ে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে আরও কার্যকর করে তোলার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ। শিক্ষকদের সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করা গেলে বিদ্যালয়গুলোতে শেখার পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে তাদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

নায়লা শারাফের গল্প শুধু একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষের ভিন্ন পেশা বেছে নেওয়ার কাহিনি নয়; এটি শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকের দায়িত্ব ও নিষ্ঠারও একটি উদাহরণ। প্রকৌশল ও ব্যাংকিং খাতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় অবদান রাখার পথ বেছে নিয়েছেন। নিজের তৈরি শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রীর মাধ্যমে শিশুদের শেখাকে সহজ ও আনন্দদায়ক করার তাঁর প্রচেষ্টা প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।

ট্যাগ: প্রাথমিক শিক্ষাশিক্ষকতাবুয়েটনেত্রকোনাশিশুদের ভবিষ্যৎমানসম্মত শিক্ষাবাংলাদেশ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।