সরকারি চাকুরির সাধারণ বেতনেও বিলাসবহুল বাড়ি, বিপুল জমি—এ সম্পদের উৎস কোথায়!
সরকারি চাকরিতে নির্ধারিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু সরকারি কর্মচারীর বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ওঠে। বেতনের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য, জমি-বাড়ি কেনার অর্থের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে তৈরি হয় নানা জিজ্ঞাসা। রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি সেটেলমেন্ট সার্ভেয়ার এ.কে.এম. রইচ উদ্দিনকে ঘিরে ওঠা সম্পদের অভিযোগও নতুন করে সামনে এনেছে এসব প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর নামে বিপুল সম্পদ রয়েছে; অন্যদিকে রইচ উদ্দিনও নিজের সম্পত্তি সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সম্পদের দলিল, আয়ের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এখন সেই প্রশ্নই সামনে আসছে।
রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি সেটেলমেন্ট সার্ভেয়ার এ.কে.এম. রইচ উদ্দিনের (রইস উদ্দিন) বিপুল সম্পদ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সরকারি চাকরিতে কর্মরত একজন সাধারণ সার্ভেয়ারের পক্ষে কীভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পর্চা ও খতিয়ান সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এখনো প্রয়োজন।
রইচ উদ্দিন রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ১ নম্বর গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর রুদ্রমুখা ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আজিবর রহমান কবিরাজ পেশায় একজন সাধারণ কৃষক ও গ্রাম্য কবিরাজ ছিলেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রইচ উদ্দিন দ্বিতীয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি বলতে সামান্য পরিমাণ ওয়ারিশি জমি ছিল।
অভিযোগের তালিকায় বাড়ি, জমি ও কোটি টাকার সম্পদ
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে রইচ উদ্দিনের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের বিবরণ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেটেলমেন্ট বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, রাজশাহী শহরের অভিজাত এলাকা ব্যাংক টাউনের ১৯ ও ২০ নম্বর প্লটে রয়েছে তাঁর একটি চারতলা বিলাসবহুল বাড়ি। বাড়িটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে বসবাস করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী শহরে তাঁর আরও একটি বাড়ি এবং একটি মাদ্রাসার জায়গা কেনার অভিযোগ উঠেছে। এসব সম্পদের সম্মিলিত মূল্য প্রায় আট কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
নিজ এলাকা গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে নামে-বেনামে প্রায় ১০ একর সম্পত্তি থাকার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি রুদ্রমুখা গ্রামে নিজের বাড়ির আধুনিকায়নসহ প্রায় দুই কোটি টাকার গ্রামীণ সম্পদের মালিক হওয়ার কথাও উঠে এসেছে স্থানীয়দের অভিযোগে।
তবে এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, বাজারমূল্য, ক্রয়কাল, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সীমিত বেতনে এত সম্পদ কীভাবে—স্থানীয়দের প্রশ্ন
একজন সরকারি সেটেলমেন্ট সার্ভেয়ারের বেতন কত এবং সেই আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বাগমারার স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পর্চা ও খতিয়ান সংশোধনের নামে অনেক সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রইচ উদ্দিনের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।
সম্পদের বিষয়ে যা জানালেন রইচ উদ্দিন
এ বিষয়ে এ.কে.এম. রইচ উদ্দিন সিএসবি নিউজকে জানান, তাঁর বাবার ১০ একর সম্পত্তি রয়েছে এবং নিজের কেনা সম্পত্তি রয়েছে চার একর।
রাজশাহী শহরের একটি বাড়ির বিষয়ে তিনি ছয় বন্ধুর যৌথ উদ্যোগে বাড়ি নির্মাণের দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একাধিক বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলে সিএসবি নিউজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নিজেকে সৎ দাবি করে রইচ উদ্দিন সিএসবি নিউজের অনুসন্ধানী দলের কাছে যে বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
রইচ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে তাঁর সম্পদের বিবরণ, জমি ও বাড়ির দলিল, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ।





