ব্রেকিং
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্তসাহায্য চাওয়ার ছলে প্রবীণদের গয়না চুরি, চার অঙ্গরাজ্যে অভিযুক্ত রোমানীয় দম্পতিজেএফকে বিমানবন্দরে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, তীব্র নিন্দা জানালেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভীঅবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানাবাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিট

সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্ত

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক সু মি টেরির মামলা স্থগিত করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্ত
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক সু মি টেরির বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার অঘোষিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিযোগে চলমান মামলা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দাখিল করা সমঝোতার শর্তে এক বছর তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। এই সময়ে নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। 

টেরিকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি অবস্থান প্রচারে সহায়তা করেছেন, মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছেন এবং বিনিময়ে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছেন। এসব উপহারের মধ্যে ডিজাইনার ব্যাগ ও কোট ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৯ হাজার ২৪৫ ডলার বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টেরি মার্কিন সরকারের কিছু অপ্রকাশিত তথ্য দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২০২২ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে একটি গোপনীয় বৈঠকের নোট দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথিতে টেরি কিছু তথ্য স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনগুলো জানিয়েছে। তবে তিনি নিজেকে অপরাধী হিসেবে স্বীকার করেননি এবং বরাবরই অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

টেরির আইনজীবী লি ওলোস্কি বলেছেন, তাঁর মক্কেল বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেরির যোগাযোগ ছিল পূর্ব এশিয়া ও উত্তর কোরিয়া বিষয়ে তাঁর বিশেষজ্ঞ ভূমিকার অংশ। আইনজীবী মামলার এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

টেরি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক কর্মকর্তা। পরবর্তীতে তিনি উত্তর কোরিয়া ও পূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার কারণে মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বিদেশি সরকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা সব ক্ষেত্রেই বেআইনি নয়। তবে কোনো বিদেশি সরকারের নির্দেশে রাজনৈতিক বা নীতিগত প্রভাব বিস্তারের কাজ করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রতিনিধি হিসেবে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের কাজের প্রকৃতি, অর্থ বা উপহার গ্রহণ এবং অপ্রকাশিত সরকারি তথ্য ব্যবহারের বিষয়গুলো আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই মামলায় প্রসিকিউটররা কেন বিচার এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা প্রকাশিত আদালতের নথিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়নি। নথিতে বলা হয়েছে, মামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। ফলে সিদ্ধান্তটির পেছনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করার সুযোগ নেই।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, টেরিকে এক বছর নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু শর্ত রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। শর্ত পূরণ হলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আদালত পূর্ণাঙ্গ বিচার শেষে তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে। বরং এটি বিচার স্থগিত রেখে শর্তসাপেক্ষে অভিযোগ প্রত্যাহারের একটি আইনি ব্যবস্থা।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্যের গোপনীয়তা এবং স্বার্থের সংঘাত নিয়ে কী ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য, তা এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের স্বাধীন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বৈধ সীমা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশি-আমেরিকান পাঠকদের জন্য ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। গুরুতর অভিযোগ উঠলেও মামলা কোন পর্যায়ে শেষ হবে, তা নির্ভর করে প্রমাণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সমঝোতার শর্তের ওপর। এই ক্ষেত্রে এক বছর শর্ত মানার পর অভিযোগ প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ট্যাগ: সিআইএযুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুপ্তচরবৃত্তির মামলামার্কিন বিচার বিভাগদক্ষিণ কোরিয়াজাতীয় নিরাপত্তা

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।