ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে, পেট্রলের দাম এক মাসে বেড়েছে ৯.১ শতাংশসাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্তসাহায্য চাওয়ার ছলে প্রবীণদের গয়না চুরি, চার অঙ্গরাজ্যে অভিযুক্ত রোমানীয় দম্পতিজেএফকে বিমানবন্দরে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, তীব্র নিন্দা জানালেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভীঅবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানা

তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার শেখ হাসিনার

শেখ হাসিনার নতুন সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার এবং দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার শেখ হাসিনার
তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার শেখ হাসিনার

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নিজের দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর জাতীয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশে ফিরে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে তাঁর করা অভিযোগগুলো তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। সেগুলোর প্রতিটি দিক স্বাধীনভাবে যাচাই না করে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

শেখ হাসিনার বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশে ফেরার পরিকল্পনা। তিনি নিজের প্রত্যাবর্তনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মানুষকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মনে করেন।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনা বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী ও সমর্থক চাপের মুখে রয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, সরকারি বক্তব্য, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হতে পারে। তিনি মনে করেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, নির্বাচনব্যবস্থা এবং সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তবে সরকারের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যাখ্যাও বিবেচনা করা জরুরি।

ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কারণে অন্য দেশের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরি করা উচিত নয় বলেও তিনি মনে করেন। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিজের আপত্তি প্রকাশ করেছেন।

দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে শেখ হাসিনার বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট তারিখ, যাত্রাপথ কিংবা দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো দাবি করা উচিত নয়। দেশে ফিরলে তাঁকে কোন ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, সেটিও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে গুরুতর মামলা ও বিচারিক সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এসব পদক্ষেপের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য এবং আদালতের সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, রায় এবং আইনগত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া সম্ভব।

শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থান উঠে এসেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ এবং দেশে ফেরার প্রত্যয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, সরকারের অবস্থান এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সব পক্ষের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ: শেখহাসিনাতারেকরহমানবাংলাদেশেররাজনীতিগণতন্ত্রভোটাধিকারআইনেরশাসন

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।