আবুধাবিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মা-ছেলের মৃত্যু, আহত বাবা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি মা ও তাঁর কিশোর ছেলে। আহত হয়েছেন পরিবারের বাবা, শোকের ছায়া প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি মা ও তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছেলের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁদের পরিবারের বাবা, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশি একটি পরিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশটির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিবরণ সামনে আসে।
খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত মায়ের নাম অশিমা চৌধুরী এবং তাঁর ছেলের নাম অরিত্র বিশ্বাস। ছেলেটির বয়স ছিল ১৫ বছর। তাঁদের পরিবারের বাবা স্বরূপ কান্তি বিশ্বাস দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা মা ও ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক নয়টার দিকে আবুধাবির আল ওয়াথবা সেতুর কাছে, আল আইন সড়ক এলাকায়। পরিবারটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে এসেছে। ধাক্কার ফলে চালক স্বরূপ কান্তি বিশ্বাস গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের প্রতিবন্ধকে আঘাত করে এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় অশিমা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে অরিত্র বিশ্বাস ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিবারের বাবা গুরুতর আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, পরদিন সকালে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে দুর্ঘটনার ধাক্কায় স্ত্রী ও সন্তানকে হারানোর শোক তাঁর পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিহত মা ও ছেলের মরদেহ আবুধাবির বানিয়াস এলাকার কেন্দ্রীয় মর্গে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মরদেহের পরবর্তী ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা এবং পরিবারের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিচিতজন ও কমিউনিটির সদস্যরা যোগাযোগ রাখছেন। বিদেশের মাটিতে এমন দুর্ঘটনার পর মরদেহ দেশে পাঠানো কিংবা স্থানীয়ভাবে দাফনের ব্যবস্থা করতে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
স্বরূপ কান্তি বিশ্বাস বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দা। অশিমা চৌধুরীর পরিবারের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি আবুধাবিতে বসবাস করছিল। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের বিষয় নয়; প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে দুর্ঘটনার পেছনে ঠিক কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটির চালকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পেছন থেকে দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কার কথা বলা হলেও দুর্ঘটনার সব পরিস্থিতি আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য সড়ক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা এবং মুহূর্তের অসতর্কতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে যাতায়াতের সময় সিটবেল্ট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং আশপাশের যানবাহনের গতিবিধির প্রতি সতর্ক থাকা জরুরি। তবে এই দুর্ঘটনায় কার কী ধরনের দায় ছিল, তা তদন্তের আগে অনুমান করা ঠিক হবে না।
আবুধাবির এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মা ও কিশোর ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে। আহত বাবার শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের মানসিক সহায়তাও এখন গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা এই কঠিন সময়ে পরিবারটির জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।





