ব্রেকিং
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্তসাহায্য চাওয়ার ছলে প্রবীণদের গয়না চুরি, চার অঙ্গরাজ্যে অভিযুক্ত রোমানীয় দম্পতিজেএফকে বিমানবন্দরে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, তীব্র নিন্দা জানালেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভীঅবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানাবাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিট

টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিকে গাড়ি দিয়ে আঘাতের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু

হিউস্টনে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে গাড়ি দিয়ে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত করছে স্থানীয় প্রসিকিউটর।

টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিকে গাড়ি দিয়ে আঘাতের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু
টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিকে গাড়ি দিয়ে আঘাতের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাড়ি দিয়ে এক ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে হ্যারিস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়। কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, তা তদন্তের ফল ও সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

আহত ব্যক্তির নাম মিগুয়েল পাররা হার্নান্দেজ। তাঁর বয়স ৪৮ বছর। গত শনিবার হিউস্টনে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার সময় তিনি আহত হন। তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে গেছে এবং চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের সহায়তাকারী অভিবাসী অধিকার সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে।

হ্যারিস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি শন টিয়ার বলেছেন, নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে এমন কিছু দৃশ্য দেখা গেছে, যা কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, হার্নান্দেজ ও আরেক ব্যক্তি একটি সাদা ট্রাক থেকে নেমে দৌড়াতে শুরু করেন। তাঁদের পেছনে একটি গাঢ় রঙের গাড়ি এগিয়ে আসে এবং পরে হার্নান্দেজ সেই গাড়ির আঘাতে পড়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, তার জন্য ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোনো ভিডিওর একটি অংশ দেখে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করা যায় না। তাই আঘাতটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলা অ্যাটর্নি শন টিয়ার মনে করছেন, প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুতর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত যানবাহন দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

আইসিইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হার্নান্দেজ গাড়ির সামনে দৌড়ে চলে এসেছিলেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রসিকিউটরের বক্তব্য, নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য ঘটনাটির আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ফেডারেল সংস্থাটি তদন্তে সহযোগিতা করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য যাচাই করতে তদন্তকারীদের আরও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

হার্নান্দেজ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন তিনি কাজে যাওয়ার পথে ছিলেন বলে তাঁর পরিবারের সহায়তাকারীরা জানিয়েছেন। তাঁর আঘাতের কারণে চিকিৎসা, কাজ থেকে অনুপস্থিতি এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

ঘটনাটি হিউস্টনে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। এর আগে জুলাই মাসে একই শহরে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় কর্মকর্তা ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ফেডারেল অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাখলেও তাঁদের কর্মকাণ্ডও প্রযোজ্য আইন ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকতে হয়। কোনো কর্মকর্তা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছেন কি না, তা নির্ধারণে ঘটনার পরিস্থিতি, হুমকির মাত্রা এবং ব্যবহৃত শক্তির যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা হয়। অভিযোগ উঠলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না; একইভাবে সরকারি পরিচয় থাকলেই কেউ তদন্তের ঊর্ধ্বে নন।

বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসন অভিযান চলাকালে কেউ পরিস্থিতির মধ্যে পড়লে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করা এবং আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অসম্পূর্ণ ভিডিও বা অযাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন হলো, গাড়ির চালক কী পরিস্থিতিতে হার্নান্দেজকে আঘাত করেছিলেন এবং ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যাবে না।

ট্যাগ: টেক্সাসহিউস্টনঅভিবাসন কর্মকর্তাফৌজদারি তদন্তগাড়ির ধাক্কায় আহতপুলিশি তদন্তঅভিবাসন সংবাদ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।