ব্রেকিং
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্তসাহায্য চাওয়ার ছলে প্রবীণদের গয়না চুরি, চার অঙ্গরাজ্যে অভিযুক্ত রোমানীয় দম্পতিজেএফকে বিমানবন্দরে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, তীব্র নিন্দা জানালেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভীঅবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানাবাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিট

জ্বালানির আগুনে বাড়ছে ক্ষোভ, ইরান যুদ্ধের চাপে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ ও ইরান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

জ্বালানির আগুনে বাড়ছে ক্ষোভ, ইরান যুদ্ধের চাপে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা
জ্বালানির আগুনে বাড়ছে ক্ষোভ, ইরান যুদ্ধের চাপে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান দল ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ভোটারদের অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। ফলে একসময় রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যেও দলটির প্রার্থীদের নির্বাচনী লড়াই কঠিন হয়ে উঠেছে।

১৪ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি আলাস্কার ওয়াসিলায় নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। সেখানে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন জোরদার করা এবং আসন্ন নির্বাচনে নিজের সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করা। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আলাস্কায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার অর্থনৈতিক চাপ এবং ইরান সংঘাত নিয়ে অসন্তোষ সেই রাজনৈতিক সমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আলাস্কার সিনেট নির্বাচন এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং আলাস্কার প্রথম আদিবাসী নারী হিসেবে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন জনমত জরিপে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বেশ কাছাকাছি দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনার ৩ অক্টোবর প্রকাশিত একটি জরিপে পেলটোলা সুলিভানের চেয়ে সাত শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। তবে অন্যান্য জরিপে ব্যবধান কম দেখা গেছে। জনমত জরিপ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না; ভোটারদের উপস্থিতি, প্রচারণার প্রভাব এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলাস্কার নির্বাচনী পরিস্থিতির পেছনে স্থানীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বড় ভূমিকা রাখছে। রাজ্যটির বিস্তীর্ণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা জ্বালানি ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। শীতকালে ঘর গরম রাখার জন্য অনেক পরিবারকে জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হয়। আবার দূরবর্তী এলাকায় পণ্য পরিবহনে বিমান, জাহাজ ও ট্রাকের ওপর নির্ভরতা বেশি। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচ নয়, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের কাছে অর্থনীতির প্রভাব অনেক সময় জাতীয় পরিসংখ্যানের চেয়ে দৈনন্দিন ব্যয়ের মাধ্যমে বেশি স্পষ্ট হয়। গ্যাস স্টেশনে বেশি অর্থ ব্যয় করা, বাড়িভাড়া পরিশোধ, বাজার করা, বিদ্যুতের বিল দেওয়া এবং পরিবারের অন্যান্য খরচ সামলানো—এসব বিষয় ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো তাঁর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম। কিন্তু জ্বালানির মূল্য বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার আয়ের বড় অংশ বাসাভাড়া, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয় করে, তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেশি পড়তে পারে।

তবে জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা, উৎপাদন, পরিবহনব্যয়, শোধনাগারের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—সবকিছুই জ্বালানির মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রতিটি মূল্যবৃদ্ধির জন্য এককভাবে কোনো একটি কারণকে দায়ী করা যথাযথ নয়।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতও নির্বাচনী বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব বিশ্ববাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে।

ওয়াসিলায় নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে এবং এর ফলে দাম কমে আসবে। কিন্তু সংঘাতের অবসান কবে হবে এবং জ্বালানির দাম কত দ্রুত কমবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। যুদ্ধের পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ওপর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

রিপাবলিকান সিনেটর সুলিভান আলাস্কার তেল ও গ্যাসশিল্প এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান রক্ষার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, স্থানীয় জ্বালানি উৎপাদন ও শিল্পের বিকাশ রাজ্যের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পেলটোলাও আলাস্কায় জ্বালানি উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যদিও সংরক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় খনন নিয়ে তাঁর অবস্থান সুলিভানের চেয়ে আলাদা। এই বিষয়টি দেখায়, জ্বালানির প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলাস্কার অর্থনীতি ও স্থানীয় মানুষের ব্যয় কমানোর বিষয়টি উভয় প্রার্থীর প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের কোন দল কতটা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে।

রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর তাদের প্রভাব বাড়বে এবং তদন্ত ও তদারকির সুযোগও বিস্তৃত হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এমন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত সমর্থন রয়েছে। এই কৌশলের উদ্দেশ্য হতে পারে নিজের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। তবে এতে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বা অসন্তুষ্ট ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ কতটা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জ্বালানির দাম, খাদ্যপণ্যের ব্যয়, বাড়িভাড়া, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নীতি তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব নীতির প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম হবে না; ব্যক্তিগত আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি, বসবাসের রাজ্য এবং আইনগত অবস্থার ওপর তা নির্ভর করবে।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য অর্থনীতি এবং জ্বালানির মূল্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আলাস্কার মতো রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচন এই চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন দলকে সমর্থন করবেন, তা নির্ভর করবে তাদের অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রার্থীদের প্রতি আস্থা এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রেরনির্বাচনমধ্যবর্তীনির্বাচনজ্বালানিরদামইরানসংঘাতমার্কিনরাজনীতি

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।