ব্রেকিং
জেএফকে বিমানবন্দরে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, তীব্র নিন্দা জানালেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভীঅবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানাবাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিটসহযোগী রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা তথ্য ছাড়াই কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলানিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি কেনার সুপারিশ অনুমোদন কমিটির

অবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানা

অর্থ পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন অর্থ বিভাগ ব্যাংক অব আমেরিকাকে বিশাল অংকের জরিমানা করেছে আজ

অবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানা
অবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংককে বিশাল অংকের জরিমানা করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকাকে একশত বিশ কোটি ডলারের বেশি জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল তেরই অক্টোবর মার্কিন অর্থ বিভাগ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। অর্থ পাচার বিরোধী আইন ও নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের কারণে এই জরিমানা করা হয়। এটি মার্কিন অর্থ বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা।

অর্থ বিভাগের আর্থিক অপরাধ প্রয়োগ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে যে ব্যাংকটি জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলা ও রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনা অর্থ পাচার নেটওয়ার্ক এবং দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তে অবৈধ অর্থ লেনদেন। ব্যাংকটি সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত ও রিপোর্ট করার প্রক্রিয়ায় ঘাটতি দেখিয়েছে। গ্রাহক যাচাই প্রক্রিয়াতেও ত্রুটি ছিল। ব্যাংকটি তার সক্রিয় সনাক্তকরণ ও রিপোর্ট করার দায়িত্বের একটি বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে ব্যাংকটি পাঁচশত কোটি ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেন সময়মতো জানায়নি। এর মধ্যে একশত কোটি ডলারের বেশি লেনদেন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত ছিল। অর্থ বিভাগের মতে, এই লেনদেনগুলো চীনা অর্থ পাচার নেটওয়ার্ক, প্রতারণা এবং দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তের সঙ্গে বাণিজ্য ভিত্তিক অর্থ পাচারের ইঙ্গিত বহন করে। দুই হাজার আঠারো সাল থেকে দুই হাজার পঁচিশ সাল পর্যন্ত এই অনিয়ম চলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন মুদ্রা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় এই জরিমানার মধ্যে পঁচাত্তর কোটি ডলার আরোপ করেছে। এটি তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জরিমানা। দুই হাজার চব্বিশ সালে জারি করা একটি সংশোধনী আদেশে ব্যাংকের অর্থ পাচার বিরোধী কর্মসূচিতে ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ায় এই জরিমানা করা হয়। ব্যাংকটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো বাইরের পক্ষের অনুসন্ধানের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে ব্যবহার করেনি।

এছাড়া বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এক কোটি ষোল লাখ ডলারের একটি সমঝোতা চুক্তি ঘোষণা করেছে। এটি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি লঙ্ঘনের জন্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান, রাশিয়া, বেলারুশ, মায়ানমার, সোমালিয়া, মাদক এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা। ব্যাংকটি চারশত পঁচাত্তরটি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনায় সমঝোতা করতে রাজি হয়েছে। এই লঙ্ঘনের সময় ব্যাংকটি ভুলবশত এক কোটি চল্লিশ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও ব্যাংকের কাছে যেতে দিয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রথম সারিতে রয়েছে। এই আকারের একটি ব্যাংক যখন অর্থ পাচার বিরোধী ও নিষেধাজ্ঞা বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন এর পরিণতি তার নিজস্ব দেয়ালের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্য অবৈধ অর্থ ঝুঁকির মুখে ফেলে।

অর্থ বিভাগ আরও বলেছে যে ব্যাংকটি সম্মতি কর্মসূচি তৈরিতে তার আয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সম্মতি খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করে মুনাফার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে এমনকি সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে বলেছে, আর্থিক অপরাধ সম্মতি গুরুতর বিষয় এবং এটি সঠিকভাবে করার দায়িত্ব আমাদের। আমরা প্রযুক্তিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি এবং আর্থিক অপরাধ মোকাবেলায় হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ করেছি। আমাদের দল নিয়ন্ত্রকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে এবং তা সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্যাংকটি জানিয়েছে যে বুধবার প্রকাশিতব্য তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফলে একশত বিশ কোটি ডলারের একটি কর অযোগ্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে প্রান্তিক নিট আয় প্রতি শেয়ারে প্রায় সতেরো সেন্ট কমে যাবে। সমঝোতার মধ্যে প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও নিরীক্ষা এবং ভবিষ্যতে যোগাযোগ ও সহযোগিতা সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য সম্মতি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই জরিমানা মার্কিন ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে আরও কঠোর হতে হবে। বিশেষ করে বড় ব্যাংকগুলোর উপর নজরদারি বাড়বে। মার্কিন সরকার সম্প্রতি আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে অন্যান্য বড় ব্যাংককেও বিভিন্ন কারণে জরিমানা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকদের উপর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাংকটির সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্মতি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপর আস্থা ধরে রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থ বিভাগ বলেছে এই পদক্ষেপগুলো অর্থ পাচার বিরোধী ও নিষেধাজ্ঞা আইন কার্যকরভাবে মেনে চলার গুরুত্বকে তুলে ধরে।


ট্যাগ: মার্কিন_ব্যাংকে_জরিমানা ব্যাংক_অব_আমেরিকা একশত_বিশ_কোটি_ডলার_জরিমানা অর্থ_পাচার মার্কিন_অর্থ_বিভাগ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।