জর্জিয়ায় পারিবারিক গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত, আগের জরুরি ফোনকল খতিয়ে দেখছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আগের জরুরি ফোনকলসহ ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডগলাস শহরের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য এবং সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছেন। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাতে ঘটনাটি ঘটে। শনিবার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিবারের সদস্যদের জড়িত একটি হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই সহিংসতা ঘটেছে এবং ঘটনার ঠিক আগে বাড়ির ভেতরে কী হয়েছিল, তা এখনো তদন্তাধীন।
ডগলাস শহরটি আটলান্টা থেকে প্রায় ২০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। পুলিশপ্রধান ব্র্যানেন প্রুয়েট জানান, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টার পর জরুরি ফোন পেয়ে কর্মকর্তারা বাড়িটিতে যান। সেখানে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আরেকজন নারী তখনো জীবিত ছিলেন। তাঁকে দ্রুত কাছের হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এর ফলে ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির দিন ওই নারী এর আগেও জরুরি সেবায় ফোন করেছিলেন। সেই ফোনকলে তিনি বাড়িতে তাঁর স্বামীর ধূমপান নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশপ্রধান সংবাদ সম্মেলনে আগের ফোনকলের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে ওই সময়ের পরিস্থিতি কীভাবে পরবর্তী প্রাণঘাতী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগের ফোনকলের তথ্য তদন্তের অংশ হলেও শুধু এ তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না।
পুলিশপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঘটনাটি একই বাড়িতে বসবাসকারী নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে বিবেচনা করছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ, গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি কিংবা এর পেছনে থাকা কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। নিহতদের পরিচয়ও প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের স্বজনদের ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এমন ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও পরিচিতজনেরা গভীর মানসিক আঘাতের মুখোমুখি হন। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে যাচাই না করা তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনুমানকে সত্য হিসেবে প্রচার না করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। পুলিশ এখনো ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি।
ডগলাসের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন জর্জিয়ার আরেকটি শহর ভিয়েনায় একটি জনসমাগমে গুলির ঘটনায় দুজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে ভিয়েনার ওই ঘটনা এবং ডগলাসের বাড়িতে ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়নি। দুটি ঘটনাই পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সহিংসতা ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, তা তদন্তের তথ্য ছাড়া অনুমান করা ঠিক হবে না। আগের জরুরি ফোনকল, বাড়ির পরিস্থিতি এবং ঘটনাক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনার পূর্ণ চিত্র বোঝার চেষ্টা করছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে মৃত্যুর পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।





