দিল্লি-পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
ভারত-পাকিস্তানসহ কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাব নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে জাতীয় ঐক্য, তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব এবং দেশের নিজস্ব পরিচয়ের বিষয়।
‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের দল, মত, ধর্ম ও বর্ণের ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের জায়গায় সবার পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সবাই এ দেশের নাগরিক। এই অভিন্ন পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণের বিষয় নয়; বরং ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রদর্শনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইতিহাস সচেতন নতুন প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঐতিহাসিক আন্দোলনের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, জনগণের অধিকার এবং জাতীয় মর্যাদার বিষয় জড়িয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের অবদানও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ওই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং সিপাহী-জনতার ঐক্যের বিষয় উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল বা তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হওয়া উচিত এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ’ স্লোগান দেন। উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলে সাড়া দেন। এ স্লোগান অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ও জাতীয় জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর এবং বাংলাদেশ স্কাউটস যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মেধা, সম্ভাবনা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেও নিতে হবে।
তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।