ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবাবিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকাচেলসিতে আইসের উপস্থিতির খবরে স্কুলে শিশু পাঠানো বন্ধ করলেন কিছু অভিভাবকযুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশা, সমঝোতার উদ্যোগে বড় ভূমিকা রাখছে কাতারক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বদলে আজীবন কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকা

মালয়েশিয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা অভিবাসন ব্যয়ে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন ১১২ বাংলাদেশি পুরুষ কর্মী, বেতন ৫২ হাজার টাকা, আবাসনসহ থাকছে সুবিধা।

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকা
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকা

সরকারিভাবে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের চাকরির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল সাপ্লাই চেইনে ১১২ জন দক্ষ পুরুষ কর্মী নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। নির্বাচিত কর্মীদের মাসিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৫২ হাজার টাকার সমান।

৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বোয়েসেল এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন (মালয়েশিয়া) প্রতিষ্ঠানে অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার পদে কর্মী নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আবেদন করার শেষ সময় ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টা। অর্থাৎ আগ্রহী প্রার্থীদের হাতে আবেদন করার জন্য খুব অল্প সময় রয়েছে।

এ নিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, নির্বাচিত কর্মীদের কোনো অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হবে না। সাধারণত বিদেশে চাকরি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা, যাতায়াত, নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে জমিজমা বিক্রি করে কিংবা ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে হয় কর্মীদের। ফলে বিদেশে যাওয়ার পর ঋণের বোঝা নিয়ে কর্মজীবন শুরু করতে হয় অনেককে। কিন্তু বোয়েসেলের এই নিয়োগে নির্বাচিত কর্মীদের কোনো পর্যায়ে অর্থ ব্যয় করতে হবে না বলে জানানো হয়েছে।
দুটি পদেই মাসিক মূল বেতন ১ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত। তবে বেতন ছাড়াও কর্মীদের জন্য আবাসন, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে কর্মীদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় বহন করার দায়িত্বও নিয়োগকর্তার থাকবে।

অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কমপক্ষে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে বৃত্তিমূলক শিক্ষা কিংবা উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। এ পদে কাজ করার জন্য ইংরেজিতে পড়া, লেখা এবং যোগাযোগ করার দক্ষতা থাকতে হবে। পাশাপাশি কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে মাইক্রোসফট এক্সেল ব্যবহারে দক্ষতা এবং সাধারণ হিসাব-নিকাশ করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

এ পদের কর্মীদের মূলত গুদাম ব্যবস্থাপনা ও পণ্য পরিচালনার কাজে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাই শারীরিকভাবে কর্মক্ষম হওয়া জরুরি। এক থেকে দুই বছরের সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন। পাশাপাশি সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই দায়িত্ব পালন, একাধিক কাজ সামলানো এবং কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা থাকতে হবে। ফর্কলিফট, পাওয়ার প্যালেট ট্রাক এবং রিচ ট্রাক পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলে সেটিও অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে, টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার পদে আবেদন করতে হলে কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে কারিগরি শিক্ষা, পলিটেকনিক কিংবা স্নাতক ডিগ্রিধারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও কারিগরি বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য এই পদে ভালো সুযোগ রয়েছে।

এই পদের জন্য গুদামের নেটওয়ার্ক সংযোগের তার, পণ্য সংরক্ষণের তাক এবং তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা এবং মাইক্রোসফট এক্সেলে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের লিখিত নির্দেশনা পড়ে বুঝতে সক্ষম হতে হবে।

দুটি পদের ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের বয়স ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ১৮ থেকে ২৪ মাস থাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বৈধ গাড়ি চালানোর লাইসেন্স থাকলে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। দেশে কিংবা বিদেশে সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

চাকরির চুক্তির মেয়াদ প্রাথমিকভাবে তিন বছর। তবে চুক্তি নবায়নের সুযোগ রয়েছে। কর্মীদের প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন এবং মালয়েশিয়ার প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় কাজ করার সুযোগও থাকবে। অতিরিক্ত কাজের জন্য আইন ও চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে সফটওয়্যারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে ৩০০ জন প্রার্থী বাছাই করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের তালিকা বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর মালয়েশিয়ার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কারিগরি ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করবেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত কর্মী নির্বাচন করা হবে। একজন প্রার্থী কেবল একটি পদে আবেদন করতে পারবেন।
সাক্ষাৎকারের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সাদা পটভূমিতে তোলা চার কপি রঙিন পাসপোর্ট আকারের ছবি, পাসপোর্টের রঙিন অনুলিপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ, কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত।

জীবনবৃত্তান্তে কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, বিশেষ করে এক্সেল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, হিসাব-নিকাশের দক্ষতা, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স এবং আগে দেশে বা বিদেশে গুদাম ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে। অসম্পূর্ণ কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে তা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন করার সময় পাসপোর্ট নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আবেদনের সরাসরি ঠিকানা:
এদিকে, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে বলা হয়েছে। বোয়েসেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদন, সাক্ষাৎকার কিংবা চূড়ান্ত বাছাইয়ের কোনো পর্যায়ে চাকরি নিশ্চিত হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অথবা তাদের প্রতিনিধিরাই কর্মী নির্বাচন করবেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নির্বাচিত কর্মীদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই অর্থ ব্যয় করতে হবে না। তাই চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে কোনো ব্যক্তি, দালাল কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়া যাবে না। কেউ টাকা দাবি করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ বিদেশে কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হলে কর্মীদের আর্থিক ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
তবে চাকরিপ্রত্যাশীদের মনে রাখতে হবে, শুধু আবেদন করলেই মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী দক্ষ বাংলাদেশি পুরুষ কর্মীদের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ। বিশেষ করে যাঁদের গুদাম ব্যবস্থাপনা, কারিগরি কাজ, কম্পিউটার পরিচালনা কিংবা বৈদ্যুতিক কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরা এই নিয়োগের মাধ্যমে বিদেশে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।


ট্যাগ: মালয়েশিয়াবোয়েসেলবিদেশে চাকরিবাংলাদেশি কর্মীপ্রবাসী কর্মসংস্থানবিনা খরচে বিদেশযাত্রামালয়েশিয়া নিয়োগসরকারি চাকরিদক্ষ কর্মীপ্রবাসী বাংলাদেশি।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।