বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাফল্য, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অডিটে সন্তোষ প্রকাশ করল আইকাওর প্রতিনিধিদল
বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইকাও। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) এর এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অডিট শেষে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইকাওর অডিট দল।
আইকাওর ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম - কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ) এর আওতায় গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই অডিট পরিচালিত হয়।
অডিট শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উদ্যোগে আইকাও প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এবারের অডিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরে আইকাওর তত্ত্বাবধানে এবারই প্রথম নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হলো।
গত ১ নভেম্বর শুরু হয়ে ৪ নভেম্বর বুধবার বিকেলে এই অডিট শেষ হয়।
চার সদস্যের অডিট দলে ছিলেন ক্যালাম ভাইন (দলনেতা), আলেসান্দ্রা জোহানা অ্যারেনাস, শেখ আবদুল্লাহ বিন আব সুকর এবং পি এ জয়কণ্ঠ।
সমাপনী দিনে অডিট দলের প্রধান ক্যালাম ভাইন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর কোনো পর্যবেক্ষণ নেই জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অডিট সংক্রান্ত বিস্তারিত সুপারিশ বেবিচকের সদর দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নুর হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন হওয়ায় উল্লেখযোগ্য ভালো স্কোরের মাধ্যমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরে সামনে এগিয়ে যাবে।
অডিট চলাকালে প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই করেন। পাশাপাশি হোল্ড ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন পরীক্ষা করেন এবং এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন সিস্টেমের (ইটিডিএস) কার্যকারিতা দেখেন।
এ ছাড়া ওয়াক থ্রু মেটাল ডিটেক্টর ও হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যালিব্রেশন ও ভেরিফিকেশন পর্যালোচনা করেন। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি প্রোগ্রাম (এএসপি) অনুযায়ী প্রবেশদ্বার ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় চেকিং হচ্ছে কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণ করেন। যাত্রী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার, রানওয়ে, কার্গো টার্মিনালসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেন তাঁরা।
ঢাকায় অডিট কার্যক্রমের জাতীয় ব্রিফিং হয় বেবিচক সদর দপ্তর কুর্মিটোলায়। ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল। বাংলাদেশের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আলমগীর দেশের এভিয়েশন সিকিউরিটি ওভারসাইট সিস্টেম সম্পর্কে আইকাও দলকে ব্রিফ করেন।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এই অডিট আন্তর্জাতিক মানের বিপরীতে বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
বেবিচক জানিয়েছে, ২০১৮ সালের আইকাও অডিটে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এবার লক্ষ্য ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জন করা।
এর আগে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (ডিএফটি) অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ স্কোর পেয়েছে। কার্গো ও মেইল নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ১০০ শতাংশ কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে।
এই অডিটে ভালো স্কোর বাংলাদেশের জন্য ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিস্ক কার্গো বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইকাওর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেখানে দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী কারেক্টিভ অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।