ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবাবিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকাচেলসিতে আইসের উপস্থিতির খবরে স্কুলে শিশু পাঠানো বন্ধ করলেন কিছু অভিভাবকযুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশা, সমঝোতার উদ্যোগে বড় ভূমিকা রাখছে কাতারক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বদলে আজীবন কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত

ছুটিতে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটক ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, আইসের হেফাজতে দিন কাটছে

প্রেমিকের সঙ্গে ছুটি কাটাতে বিমানে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। কিন্তু বিমানবন্দরেই তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এখন তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবীরা।

ছুটিতে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটক ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, আইসের হেফাজতে দিন কাটছে
ছুটিতে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটক ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, আইসের হেফাজতে দিন কাটছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছুটি কাটাতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইস) হাতে আটক হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, প্রেমিকের সঙ্গে ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আটক শিক্ষার্থীর নাম পাওলা ভ্যালেন্তিনা আলবর্নোজ হার্নান্দেজ। তিনি কলম্বিয়ার নাগরিক। বর্তমানে তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার সিটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওলা ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভিসার অনুমোদিত মেয়াদ ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হয়। তবে নিজ দেশে গুরুতর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাঁর আবেদন তখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তাঁর আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বৈধ কাজের অনুমতিও ছিল।

পাওলা বার্কলিতে ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। এর আগে তিনি সান হোসে সিটি কলেজে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার কাজেও যুক্ত ছিলেন।

প্রতিবেদনে তাঁর প্রেমিক অ্যান্থনির বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছেছিলেন। ছুটিতে পোর্টল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। বিমানবন্দরের অপেক্ষাকক্ষে থাকা অবস্থায় সাধারণ পোশাকে এক ব্যক্তি পাওলার কাছে এসে তাঁর নাম জানতে চান। পরে ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় আইসের কর্মকর্তা হিসেবে জানান বলে অ্যান্থনি দাবি করেছেন।

পাওলার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে প্রেমিকের কাছ থেকে আলাদা করা হয়। এরপর তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে আটক করা হয় বলে অ্যান্থনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিজের সঙ্গীকে চোখের সামনে নিয়ে যেতে দেখা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের অভিজ্ঞতা ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ঘটনাটি সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাওলা ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পেয়েছিলেন। এরপরও তিনি দেশ ছাড়েননি। তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হবে এবং অপসারণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলা পর্যন্ত তিনি আইসের হেফাজতে থাকবেন।

ডিএইচএস আরও বলেছে, কাজের অনুমতি কিংবা আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন থাকা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাওয়ার সমান নয়।

এদিকে পাওলার আইনজীবীরা তাঁর আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময় প্রয়োজনীয় পরোয়ানা দেখানো হয়নি এবং তাঁকে আটক করার আগে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বা জননিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির চ্যান্সেলর রিচ লায়ন্সও পাওলার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁকে পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সহপাঠীরাও তাঁর মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করেছেন।

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাওলার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের পূর্ব ইতিহাস নেই। আদালতের নথি অনুসন্ধানেও তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর অভিবাসন আদালতে শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। তবে আটকাদেশের বিরুদ্ধে করা ফেডারেল মামলাটি আলাদা আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে চলবে।

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন থাকলে, কাজের অনুমতি থাকলেও বিমানভ্রমণের সময় কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে আইনি অবস্থান ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই অভিবাসন-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা থাকলে বিমানে ভ্রমণের আগে অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইন-সহায়তা সংগঠন।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রক্যালিফোর্নিয়াঅভিবাসনআইসপাওলা আলবর্নোজ হার্নানandezবার্কলি বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী আটকবিমানবন্দরঅভিবাসন অভিযানআশ্রয়ের আবেদন

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।