ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবাবিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকাচেলসিতে আইসের উপস্থিতির খবরে স্কুলে শিশু পাঠানো বন্ধ করলেন কিছু অভিভাবকযুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশা, সমঝোতার উদ্যোগে বড় ভূমিকা রাখছে কাতারক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বদলে আজীবন কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবা

কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানকে বড় করার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বল্প আয়ের অনেক শিক্ষার্থী। সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ায় তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবা

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প আয়ের কলেজশিক্ষার্থীদের সন্তানদের দেখাশোনার খরচ কমাতে দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান কর্মসূচিতে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তান লালন-পালন করা হাজারো পরিবারের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সন্তানদের দেখাশোনার জন্য কলেজের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

৬ নভেম্বর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ ২০২৬ সালের জন্য চাইল্ড কেয়ার অ্যাকসেস মিনস প্যারেন্টস ইন স্কুল বা সিসিএএমপিআইএস কর্মসূচির আওতায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম কলেজকে অনুদান দিয়েছে। আগে ১৪৮টি কলেজকে চার বছর মেয়াদি অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪০টি প্রতিষ্ঠান এই সহায়তা পেয়েছে। ২০২১ সালের প্রতিযোগিতায় অনুদান পেয়েছিল ৩২৭টি কলেজ।

এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সন্তানদের শিশু পরিচর্যার খরচে সহায়তা দেওয়া, যাতে তাঁরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। কলেজের নিজস্ব শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র কিংবা অনুমোদিত বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে সন্তানকে কোথায় রেখে ক্লাস করবেন, সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা কমে অভিভাবকদের।

অনুদান না পাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে কয়েকটি কলেজে দেখা যাচ্ছে। উইসকনসিনের ম্যাডিসন কলেজ জানিয়েছে, তারা দুই মিলিয়ন ডলারের চার বছর মেয়াদি অনুদানের জন্য আবেদন করেছিল। পর্যালোচকদের কাছ থেকে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি অনুদান পায়নি। কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তে সরাসরি ২৮ জন শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং তাঁদের ৩৪টি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কলেজটির শিক্ষার্থী ডেভিন থমাস সিনিয়র জানিয়েছেন, শিশু পরিচর্যার সহায়তা না থাকলে অনেক অভিভাবকের পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর পরিবারও নতুন পরিস্থিতিতে খরচ সামলানোর চাপের মুখে পড়েছে।

ম্যাডিসন কলেজের হিসাবে, আগে এই কর্মসূচির অনুদান যোগ্য স্বল্প আয়ের শিক্ষার্থীদের শিশু পরিচর্যার খরচের প্রায় ৭৫ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে পারত। সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের সামনে এখন নিজস্ব অর্থে শিশু পরিচর্যার খরচ বহন করা অথবা পড়াশোনার সময়সূচি কমিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত আসছে।

টেক্সাসের অস্টিন কমিউনিটি কলেজেও এর প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নার্সিং বিভাগের শিক্ষার্থী লারিসা সাউসিয়ো মেয়ের সন্ধ্যাকালীন পরিচর্যার ব্যবস্থা হারিয়ে পরীক্ষাগারের কয়েকটি ক্লাস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তাঁর পড়াশোনা শেষ করার সময় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের বাজেট নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সফল আবেদনকারীদের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, প্রায় ৩০০টি কলেজ আবেদন করার পরও কেন মাত্র ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে চার বছর মেয়াদি অনুদান দেওয়া হলো।

এই কর্মসূচিতে অনুদান সরাসরি ব্যক্তিগত শিক্ষার্থীর হাতে দেওয়া হয় না; কলেজের মাধ্যমে শিশু পরিচর্যার খরচে সহায়তা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত পেল গ্র্যান্ট পাওয়ার যোগ্য স্বল্প আয়ের শিক্ষার্থীরা এই সহায়তার আওতায় আসতে পারেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য নন। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব অভিবাসী পরিবার এই অনুদান পাবেন—এমন ধারণা সঠিক নয়।

ম্যাডিসন কলেজ আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাময়িক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অনুদানের বিকল্প হতে পারে না।

সন্তান লালন-পালনের খরচ, বাসাভাড়া ও পড়াশোনার ব্যয় একসঙ্গে সামলানো যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন অনুদান সংকোচনের ফলে তাঁদের কেউ কেউ পড়াশোনা পিছিয়ে দিতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা কমানো বা সন্তানের পরিচর্যার বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হতে পারে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রশিক্ষার্থীশিশুযত্নসরকারি অনুদানকর্মজীবী মা-বাবাকলেজশিক্ষাসিসিএএমপিআইএসশিশু পরিচর্যাম্যাডিসন কলেজ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।