‘মৃত্যুর ভয় নেই, ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরব’ এপিকে জানালেন শেখ হাসিনা
ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন। এপিকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।
৫ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ই-মেইলে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা নিজের দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মৃত্যু যদি তাঁর নিয়তিতে থাকে, তাহলে নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মধ্যে মৃত্যুবরণ করতেই তিনি বেশি আগ্রহী। তবে ভারত থেকে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানাননি তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ রায়ের বৈধতা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।
এপি জানায়, বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত এখনো তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেনি। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দলের অন্তত ২০ হাজার সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যার স্বাধীন কোনো যাচাই এপি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টি তাঁর অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, বর্তমান সরকার বলছে, গ্রেপ্তারগুলো নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
বিদেশি কোনো শক্তির সহায়তা নিয়ে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, নিজের দেশে ফেরার জন্য কোনো বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ তাঁর প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
এপি-র সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবরটি গুরুত্ব পায়। ওয়াশিংটন পোস্ট, কাঠমান্ডু পোস্টসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের ফেরার পরিকল্পনা, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়গুলো উঠে আসে।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, এপি-র সাক্ষাৎকারটি বিশ্বের ১২টি দেশের ৮০টির বেশি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তবে এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নিজস্ব দাবি; সব সংবাদমাধ্যমের তালিকা ও সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি কীভাবে ফিরবেন, বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নেবে এবং ভারত এ বিষয়ে কী অবস্থান নেবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।