ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবাবিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকাচেলসিতে আইসের উপস্থিতির খবরে স্কুলে শিশু পাঠানো বন্ধ করলেন কিছু অভিভাবকযুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশা, সমঝোতার উদ্যোগে বড় ভূমিকা রাখছে কাতারক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বদলে আজীবন কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত

যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ, এবার নিজ শহরের সড়কে অমর হচ্ছেন সেনাসদস্য অ্যাঞ্জেল

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্য অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারসেডের স্মরণে নিউইয়র্কের কুইন্সে সড়কের মোড়ের নামকরণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ, এবার নিজ শহরের সড়কে অমর হচ্ছেন সেনাসদস্য অ্যাঞ্জেল
যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ, এবার নিজ শহরের সড়কে অমর হচ্ছেন সেনাসদস্য অ্যাঞ্জেল

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী সেনাসদস্য অ্যাঞ্জেল সারাহ র‍্যাম্পারসেড। তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। অ্যাঞ্জেলের বেড়ে ওঠা ওজোন পার্ক এলাকার একটি সড়কের মোড় তাঁর নামে নামকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিউএনএসের ৬ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুইন্সের ১৩৩ নম্বর অ্যাভিনিউ ও ৯৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলটির নাম ‘স্টাফ সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস র‍্যাম্পারসেড ওয়ে’ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ নভেম্বর নগর পরিষদের সদস্য জোয়ান আরিওলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অ্যাঞ্জেলের পরিবারের অনুরোধে এ বিষয়ে আইনগত প্রস্তাব জমা দিয়েছেন তিনি।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের এলাকার একজন সাহসী তরুণীর স্মৃতি স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে চান। যে এলাকায় অ্যাঞ্জেলের শৈশব কেটেছে, যে রাস্তায় তাঁর বেড়ে ওঠা, সেই জায়গাটিতেই তাঁর নাম সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি সড়কের নামকরণ নয়, বরং দেশের জন্য জীবন দেওয়া একজন মানুষের প্রতি সম্মান জানানোর প্রচেষ্টা।

অ্যাঞ্জেল সারাহ র‍্যাম্পারসেডের জন্ম ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে। মাত্র দুই বছর বয়সে তিনি মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। এরপর নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্ক এলাকায় বেড়ে ওঠেন। ছোটবেলা থেকেই সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁর এই আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।

শিক্ষাজীবনে তিনি পিএস ১০৮ ও এমএস ২০২ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে ফরেস্ট হিলস উচ্চবিদ্যালয় থেকে শিক্ষা শেষ করেন। এরপর কুইন্সবরো কমিউনিটি কলেজ এবং জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসে পড়াশোনা করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্নও এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে মাত্র ২১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন অ্যাঞ্জেল। সামরিক দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর তিনি প্রথম ব্যাটালিয়নের ৫৭তম আকাশ প্রতিরক্ষা গোলন্দাজ রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কর্মস্থল ছিল জার্মানির আনসবাখে অবস্থিত সামরিক কমান্ডের অধীনে। তিনি সামরিক যোগাযোগ ও সংকেত পরিচালনাসংক্রান্ত দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন।

২০২৬ সালের ১৭ জুলাই জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান অ্যাঞ্জেল। হামলার পর প্রথমে তাঁকে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সামরিক কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাঁর পরিচয় প্রকাশ করে। ওই হামলায় তাঁর সঙ্গে আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। তাঁরা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস।

অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নিজের এলাকা ওজোন পার্কে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ২৭ জুলাই ১৩৩ নম্বর অ্যাভিনিউ ও ৯৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলের কাছে তাঁর স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করে একটি শোকসভা আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাঞ্জেলের মা ক্যারল অ্যাসেভেদো মেয়েকে হারানোর বেদনা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের কাছে অ্যাঞ্জেল ছিলেন অত্যন্ত আদরের সন্তান। তাঁর সাহস, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করে স্বজনেরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মেয়ের দেশের সেবার বিষয়টি নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তাঁর মা।

অ্যাঞ্জেলের স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগঠন ওজোন পার্ক রেসিডেন্টস ব্লক অ্যাসোসিয়েশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটির সভাপতি স্যাম এসপোসিতো জানিয়েছেন, এই নামকরণ শুধু একটি স্মারক সাইনবোর্ড স্থাপনের বিষয় নয়। এটি এমন একজন তরুণীর আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, যিনি নিজের এলাকা থেকে উঠে এসে দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছেন।

নামকরণের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য এখনো কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ধাপ বাকি রয়েছে। প্রথমে নগর পরিষদকে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিতে হবে। এরপর মেয়রের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনি স্বীকৃতি পাবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নগরের পরিবহন বিভাগ ওই স্থানে স্মারক সাইনবোর্ড স্থাপন করবে।

কিউএনএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের বসন্তে স্মারক সাইনবোর্ড উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অনুমোদন ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নামকরণকে চূড়ান্ত বলা যাবে না।

অ্যাঞ্জেলের জীবনকাহিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের স্বপ্ন ও সংগ্রামের একটি উদাহরণ। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো থেকে আসা একটি পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি নিউইয়র্কে বড় হয়েছেন। নিজের পরিশ্রম ও স্বপ্নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে জায়গা করে নিয়েছিলেন। দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, তাঁর নামে সড়কের মোড়ের নামকরণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে। একটি নামফলক হয়তো তাঁর পরিবারের শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না, কিন্তু এলাকার মানুষের স্মৃতিতে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার একটি স্থায়ী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারসেডের স্মরণে নেওয়া এই উদ্যোগ তাই একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের পাশাপাশি পুরো এলাকার সম্মিলিত শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই সেনাসদস্যের নাম যেন তাঁর নিজের বেড়ে ওঠার এলাকায় সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হয়, সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা।


ট্যাগ: অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারসেডমার্কিন সেনাবাহিনীনিহত সেনাসদস্যনিউইয়র্ককুইন্সওজোন পার্কজর্ডানইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসেনাসদস্যের আত্মত্যাগস্মরণসভাসড়কের নামকরণঅভিবাসী পরিবার।

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।