ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবাবিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকাচেলসিতে আইসের উপস্থিতির খবরে স্কুলে শিশু পাঠানো বন্ধ করলেন কিছু অভিভাবকযুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশা, সমঝোতার উদ্যোগে বড় ভূমিকা রাখছে কাতারক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বদলে আজীবন কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত

১৪ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে ডেসটিনি গ্রুপের বেস্ট এয়ারের বিমান

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বছর ধরে পড়ে থাকা বেস্ট এয়ারের বিমান রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

১৪ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে ডেসটিনি গ্রুপের বেস্ট এয়ারের বিমান
১৪ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে ডেসটিনি গ্রুপের বেস্ট এয়ারের বিমান

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে ডেসটিনি গ্রুপের মালিকানাধীন বেস্ট এয়ার (Best Air) এর একটি বিমান। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকতে থাকতে একসময়ের কোটি টাকার বিমানটি এখন প্রায় ভাঙারির স্তূপে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানটির বডিতে মরিচা ধরেছে, রং উঠে গেছে, টায়ার বসে গেছে, জানালার গ্লাস ভাঙা, ভেতরের সিট ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় বিমানটি এখন আর আকাশে ওড়ার মতো অবস্থায় নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন এটিকে মেরামত করে চালানো প্রায় অসম্ভব।

কীভাবে এলো এই বিমান?

বেস্ট এয়ারের মূল প্রতিষ্ঠান বেস্ট এভিয়েশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে হেলিকপ্টার অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করে, পরে কার্গো ও যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু করে।

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে বোয়িং ৭৩৭-২০০ বিমান দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বেস্ট এয়ার যাত্রীবাহী ফ্লাইট শুরু করে। পরে এমডি-৮৩ বিমান লিজ নিয়ে দুবাই, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক রুটেও ফ্লাইট চালায়।

কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ২০০৯ সালের মার্চে বিপুল লোকসানে পড়ে বেস্ট এয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। তখন প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ছিল প্রায় ৭২ কোটি টাকা।

এরপর ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর বেস্ট এভিয়েশন তার ৮০% শেয়ার ডেসটিনি গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয়। তখন ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন মোহাম্মদ রফিকুল আমিন এবং বেস্ট এভিয়েশনের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এম হায়দার উজ্জামান।

ডেসটিনি গ্রুপ প্রায় ১৫০ কোটি টাকায় বেস্ট এয়ার কিনে নিয়ে ২০১১ সালের ২৬ মার্চ থেকে আবার ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সেই ঘোষণা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

কেন ১৪ বছর ফেলে রাখা?

ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা, প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাওয়ার পর বেস্ট এয়ারের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মালিকপক্ষের কেউ আর বিমানটির খোঁজ নেয়নি।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমানটি সরানো, নিলামে তোলা বা স্ক্র্যাপ করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ১৪ বছর ধরে বিমানটি বিমানবন্দরের মূল্যবান জায়গা দখল করে পড়ে আছে।

কার ক্ষতি?

১. রাষ্ট্রের ক্ষতি: কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট, বিমানবন্দরের জায়গা দখল।
২. ডেসটিনি গ্রাহকদের ক্ষতি: সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের টাকায় কেনা বিমান আজ ভাঙারি।
৩. বিমানবন্দরের সুনাম ক্ষতি: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত বিমান পড়ে থাকা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য চাওয়া হয়েছে

এ বিষয়ে বেবিচক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আছে। আইনি জটিলতার কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

তবে বিমান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে বিমানটি নিলামে বিক্রি বা স্ক্র্যাপ করে জায়গা খালি করা উচিত। নইলে আর কিছুদিন পর লোহার দামেও বিক্রি করা যাবে না।

বিমানটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে এলাকাবাসী ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন - “১৪ বছর ধরে একটি বিমান এভাবে ফেলে রাখা শুধু অবহেলা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার শামিল। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”


ট্যাগ: বেস্ট এয়ারডেসটিনি গ্রুপচট্টগ্রাম বিমানবন্দরশাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরপরিত্যক্ত বিমানবেস্ট এভিয়েশনবিমান চলাচলবিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসম্পদ ব্যবস্থাপনা

প্রতিবেদক

Nure Alam Jibon

Journalist | Political & Crime Affairs Analyst | Writer

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।