আইস আতঙ্কে স্কুলবাসে চুপচাপ শিশুরা, অভিবাসী পরিবারের মধ্যে বাড়ছে ভয়
স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার কথা। অথচ অভিবাসন অভিযান ও পরিবারের সদস্যদের আটক হওয়ার আশঙ্কায় অনেক শিশুর মনে তৈরি হয়েছে ভয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে শিক্ষকেরা বলছেন, এই আতঙ্ক এখন শ্রেণিকক্ষেও প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবেরি শহরে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইস) অভিযানকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অনেক শিশু পরিবারের সদস্যদের আটক হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে কথা বলছে। কেউ কেউ গ্রীষ্মের ছুটির সময় থেকেই বাড়ির বাইরে যেতে ভয় পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
কানেকটিকাট মিরর ৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্যানবেরিতে গত আগস্টে আইসের অভিযান স্থানীয় স্কুল ও অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শহরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ লাতিনো হওয়ায় পরিস্থিতিটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
ড্যানবেরির এক শিক্ষিকা এরিন ডেলি জানান, গ্রীষ্মের ছুটির শুরু থেকেই কিছু শিক্ষার্থী তাঁকে বলেছিল, তারা বাড়ির বাইরে বের হবে না কিংবা লুকিয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের কথাবার্তায় ‘ধরা পড়া’ এবং ‘একসঙ্গে ধরে নিয়ে যাওয়া’ এ ধরনের ভয়ও প্রকাশ পেয়েছিল।
স্কুল খোলার প্রথম সপ্তাহে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলবাস থেকে কিছু শিক্ষার্থী তাদের বাবা-মাকে আটক হতে দেখেছে বলে শিক্ষকদের জানিয়েছে। বাসস্টপে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে আসা অভিভাবকদের কাছে কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন এমন ঘটনাও শহরে আলোচনার জন্ম দেয়।
শিক্ষকদের মতে, এসব ঘটনা শিশুদের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলছে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ স্কুলে এসে বন্ধুদের সঙ্গে এসব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছে।
তবে কানেকটিকাটের সব শহরে একই পরিস্থিতি দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে উইন্ডহাম শহরের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানকার স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম ১০ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উপস্থিতি বরং দুই শতাংশ বেশি ছিল।
উইন্ডহামের শিক্ষাপ্রধান আইরিস গোমেরো বলেছেন, স্কুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সচেতনভাবে কাজ করছে। কোনো অভিবাসন কর্মকর্তা স্কুলে এলে কী ধরনের পরিচয়পত্র বা আদালতের নথি যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে কর্মীদের নির্দিষ্ট নিয়ম জানানো হয়েছে।
ড্যানবেরির শিক্ষকরা আরও বলছেন, অভিবাসন অভিযান শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, স্থানীয় ব্যবসা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবারের সদস্যদের বাইরে যেতে ভয় থাকলে তারা কেনাকাটা, খাবার গ্রহণ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে কম বের হয়। এতে ছোট ব্যবসাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে এমন এক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যিনি অভিবাসন অভিযানের পর একা বাজারে যেতেও ভয় পাচ্ছেন বলে তাঁর পরিচিত একজন শিক্ষক জানিয়েছেন। অর্থাৎ, উদ্বেগ শুধু অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই অভিযানের পরিবেশ পুরো কমিউনিটির স্বাভাবিক জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও স্কুলে যেন শিশুরা নিরাপদ বোধ করে, সে জন্য শিক্ষক ও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী মা-বাবাদের জন্য ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সন্তানদের স্কুলের নিরাপত্তা নীতি, জরুরি যোগাযোগের তথ্য এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নিয়ম জানা থাকা জরুরি। কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি প্রশ্ন দেখা দিলে অনুমান না করে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।