যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশা, সমঝোতার উদ্যোগে বড় ভূমিকা রাখছে কাতার
যুদ্ধ থামাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তবে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরালো হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান এবার নিজেদের পরমাণু কর্মসূচির এমন কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনায় বসার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, যেগুলো নিয়ে আগে আলোচনা করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। এই পরিবর্তনকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার ৬ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ইরান কাতারের পক্ষ থেকে দেওয়া পরমাণু কর্মসূচিসংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা হওয়ায় তিনি পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই দোহার প্রধান লক্ষ্য। ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেয়, তাহলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নতুন গতি পেতে পারে।
এর আগে গত জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই দেশের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটাতে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ নতুন করে উদ্যোগ নেয়। কাতার, ইরাক, মিসরসহ কয়েকটি দেশ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে কাতারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে রয়টার্সের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে না বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চয়তাও ইরানের দাবির অংশ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। ফলে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও দুই দেশের মধ্যে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাত্রার ইউরেনিয়াম সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সমান নয়। তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ করা হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। ওয়াশিংটন চায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক। বিশেষ করে যেসব পরমাণু স্থাপনায় হামলা হয়েছে, সেগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ এবং ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে ইরানের অবস্থান হলো, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য বলে দাবি করে আসছে। দেশটির দাবি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়ার মতো পদক্ষেপ ছাড়া বড় ধরনের সমঝোতা সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সংঘাত বা নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি সম্ভাব্য সাময়িক সমঝোতার কথাও সামনে এসেছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় আস্থা তৈরির জন্য দুই দিনের একটি প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল বা প্রত্যাহার করতে পারে এবং আটকে থাকা কিছু ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয় বিবেচনা করতে পারে। এর বিনিময়ে ইরান হামলার শিকার পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে পারে এবং সাময়িক ব্যবস্থার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে পারে।
এই প্রাথমিক পদক্ষেপ সফল হলে পরবর্তী সময়ে ইউরেনিয়ামের মজুত, পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পরিণত হয়নি। দুই পক্ষের সম্মতি এবং বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া এগুলো কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।
এই পরিস্থিতিতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কাতারের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার ৬ নভেম্বর আমির শেখ তামিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ফোন পান। দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন।
কাতারের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় দুই নেতা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমাতে কাতারের নেতৃত্বে চলমান উদ্যোগ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নিয়ে কথা বলেছেন। আমির শেখ তামিম বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো, সমুদ্রপথে নৌযানের চলাচলের স্বাধীনতা এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
কাতারের এই উদ্যোগ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধ কমানোর প্রচেষ্টা নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এসব দেশের জ্বালানি অবকাঠামো, সমুদ্রবন্দর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথও সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপ, এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতিতে। বাংলাদেশও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারবে না।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে কর্মরত বাংলাদেশিরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে বিমান চলাচল, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা হলে পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার পর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম, সামরিক ব্যয় এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতিকে এখনই শান্তিচুক্তির পথে নিশ্চিত অগ্রগতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইরান আগে নিজেদের শর্ত পূরণের দাবি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে শুরুতেই নিশ্চয়তা চায়।
দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা। অতীতে বিভিন্ন সমঝোতা ও আলোচনার উদ্যোগ ভেঙে যাওয়ায় এবার কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুধু আলোচনায় বসা নয়, বরং উভয় পক্ষকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, বন্দর ও নৌপথ সচল করা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমাধান এবং পরমাণু স্থাপনাগুলোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে বড় পরীক্ষা।
সব মিলিয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় নমনীয়তা দেখায় এবং যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে ছাড় দেওয়ার পথ খুঁজে নেয়, তাহলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাতারের পরবর্তী কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাবে, নাকি আবারও আলোচনা ভেঙে গিয়ে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপাতত আশার খবর থাকলেও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিতই থাকছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।