নতুন বছরে মেডিকেয়ারের ওষুধ বীমায় বড় পরিবর্তন, প্রবীণদের সামনে বাড়তি খরচের শঙ্কা
২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের ওষুধ বীমার খরচ বাড়তে পারে। বর্তমান পরিকল্পনায় থাকলে অনেক গ্রাহকের মাসিক প্রিমিয়াম বাড়বে। ৭ ডিসেম্বরের আগে বীমা যাচাইয়ের পরামর্শ।
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা প্রবীণদের জন্য ২০২৭ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কেনার বীমা বা মেডিকেয়ার পার্ট ডি নিয়ে নতুন বছরের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমান বীমা পরিকল্পনা অপরিবর্তিত রাখলে অনেক গ্রাহককে আগের তুলনায় বেশি মাসিক প্রিমিয়াম দিতে হতে পারে। পাশাপাশি কিছু বীমা পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখো গ্রাহককে নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান কেএফএফের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান গ্রাহকেরা তাঁদের স্বতন্ত্র ওষুধ বীমা পরিকল্পনা পরিবর্তন না করলে ২০২৭ সালে গড় মাসিক প্রিমিয়াম ৩৪ ডলার থেকে বেড়ে ৫১ ডলার হতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য বৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে এটি প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য নিশ্চিত বৃদ্ধি নয়। নতুন বছরের জন্য কম খরচের পরিকল্পনায় পরিবর্তন করলে অনেকের ব্যয় কম থাকতে পারে।
কেএফএফের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান পরিকল্পনা ধরে রাখলে কম আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সরকারি ভর্তুকি না পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৭৬ শতাংশের মাসিক প্রিমিয়াম বাড়তে পারে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ গ্রাহক বর্তমানে বিনা মাসিক প্রিমিয়ামের পরিকল্পনায় থাকলেও ২০২৭ সালে একই ধরনের শূন্য প্রিমিয়ামের স্বতন্ত্র ওষুধ বীমা পরিকল্পনা পাওয়া যাবে না।
ওষুধের বীমায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে ডিডাক্টিবল। ২০২৬ সালে মেডিকেয়ার পার্ট ডির সর্বোচ্চ নির্ধারিত ডিডাক্টিবল ছিল ৬১৫ ডলার। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৭০০ ডলার হতে পারে। ডিডাক্টিবল হলো বীমা নির্ধারিত সীমা, যার আগে নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ গ্রাহককে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়। তবে সব পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য হবে না; কোনো কোনো পরিকল্পনায় এর চেয়ে কম অঙ্কও নির্ধারিত থাকতে পারে।
এদিকে শুধু ওষুধের বীমা নয়, মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ এবং স্বতন্ত্র প্রেসক্রিপশন ওষুধ বীমার কিছু পরিকল্পনাও ২০২৭ সালে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেএফএফের তথ্যের ভিত্তিতে নর্থ ক্যারোলাইনার সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইউএনসি জানিয়েছে, দেশজুড়ে চার মিলিয়নেরও বেশি গ্রাহকের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হতে পারে। নর্থ ক্যারোলিনাতেই আনুমানিক ৪০ হাজার গ্রাহক বছরের শেষে তাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা হারানোর মুখে রয়েছেন।
তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস জানিয়েছে, ২০২৭ সালে স্বতন্ত্র ওষুধ বীমার জাতীয় গড় প্রিমিয়াম ৩৫ দশমিক ০৯ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬ ডলার হতে পারে। অন্যদিকে কেএফএফের ৫১ ডলারের হিসাবটি বর্তমান গ্রাহকেরা তাঁদের একই পরিকল্পনায় থেকে গেলে সম্ভাব্য ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে পরিকল্পনা পরিবর্তন ও গ্রাহকদের সিদ্ধান্তের ওপর প্রকৃত গড় খরচ নির্ভর করবে।
মেডিকেয়ারের বার্ষিক বীমা পরিবর্তনের সুযোগ বা ওপেন এনরোলমেন্ট চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে গ্রাহকেরা তাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা নিতে পারবেন। নতুন পরিকল্পনার সুবিধা কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু মাসিক প্রিমিয়াম দেখে বীমা নির্বাচন করা উচিত নয়। নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধ বীমার আওতায় আছে কি না, পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতাল ওই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত কি না, ডিডাক্টিবল কত এবং ওষুধ কেনার সময় নিজের পকেট থেকে কত টাকা দিতে হবে এসব বিষয়ও যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের যেসব সদস্যের মা-বাবা বা প্রবীণ স্বজন মেডিকেয়ার ব্যবহার করেন, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বীমা প্রতিষ্ঠানের পাঠানো নতুন বছরের নোটিশ ভালোভাবে পড়ে এবং মেডিকেয়ারের সরকারি ওয়েবসাইটে পরিকল্পনাগুলো তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে বিনা মূল্যে পরামর্শের জন্য স্থানীয় স্টেট হেলথ ইনস্যুরেন্স অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের সহায়তাও নেওয়া যায়।
নতুন বছরের আগে বীমা পরিকল্পনা যাচাই না করলে কারও কারও চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিজের বীমার সুবিধা ও খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।