ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের শিশুযত্নে সরকারি অনুদান কমল, বিপাকে কর্মজীবী মা-বাবাবিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ দক্ষ কর্মীর নিয়োগ, মাসিক বেতন ৫২ হাজার টাকাচেলসিতে আইসের উপস্থিতির খবরে স্কুলে শিশু পাঠানো বন্ধ করলেন কিছু অভিভাবকযুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশা, সমঝোতার উদ্যোগে বড় ভূমিকা রাখছে কাতারক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বদলে আজীবন কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত

হিউস্টেন শহরে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে পুলিশের সহযোগিতা কমালেন মেয়র

অভিবাসন সংক্রান্ত কারণে কাউকে আটক বা পুলিশের হেফাজতে রাখার সুযোগ কমাতে নতুন নির্দেশ দিয়েছেন হিউস্টনের মেয়র। এতে সাধারণ অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হিউস্টনের শহরের মেয়র জন হুইটমায়ার।
হিউস্টনের শহরের মেয়র জন হুইটমায়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছেন মেয়র জন হুইটমায়ার। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তিনি এ বিষয়ে একটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর ফলে শুধু কারও অভিবাসন অবস্থার কারণে পুলিশ আর কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না। একই কারণে কাউকে অতিরিক্ত সময় আটকে রাখা বা পুলিশের হেফাজতে রাখার সুযোগও থাকবে না।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন অপরাধে গ্রেপ্তার হলে, যার জন্য কারাদণ্ড হতে পারে, অথবা কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। তবে শুধু কোনো ব্যক্তির বৈধ কাগজপত্র না থাকার সন্দেহে তাকে আটক রাখা বা অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

মেয়র হুইটমায়ার বলেছেন, যারা মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর তাদের দিকে থাকা উচিত। যারা কাজ করছেন, পড়াশোনা করছেন কিংবা পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন, তাদের অযথা হয়রানি করা উচিত নয়। এমনকি সাধারণ যানবাহন চলাচলের নিয়ম ভাঙার মতো ঘটনায় কাউকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হলে, সেই কারণে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মেয়রের এই সিদ্ধান্তের পেছনে হিউস্টনের অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। এর আগে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে শহরটির নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে টেক্সাসের তৎকালীন রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা সীমিত করা হলে শহরের জন্য বিপুল পরিমাণ সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এ নিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরোধ তৈরি হয়।

সম্প্রতি অভিবাসন অভিযান ঘিরে হিউস্টনে একাধিক ঘটনাও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব ঘটনার পর অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় নতুন নীতির দাবি আরও জোরালো হয়।

মেয়রের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সহযোগিতার কারণে অনেক অভিবাসী ভয়ে পুলিশের কাছে অপরাধের অভিযোগ জানাতেও দ্বিধা করেন। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে সাধারণ অভিবাসীদের মধ্যে সেই ভয় কিছুটা কমতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে পুলিশ কীভাবে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে তার ওপর। হিউস্টনের এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ট্যাগ: অভিবাসনহিউস্টনটেক্সাসযুক্তরাষ্ট্রের খবর

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।