ব্রেকিং
নিউজার্সিতে ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারের লটারিতে জিতল একটি টিকিট, বিজয়ী এখনো অজানাযুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে নতুন চাকরি ১ লাখ ৬৫ হাজার, বেকারত্ব কমে ৪.১ শতাংশগবেষণায় বাংলাদেশি সামরিনের সাফল্য, বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নিজ দেশের মেয়েদেরসেরা ১০ কৌতুকশিল্পীর তালিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উসামজর্জিয়া ও টেনেসিতে ভয়াবহ বন্যা, সড়ক বন্ধ, পানিবন্দি পরিবার, চলছে জরুরি উদ্ধার অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে নতুন চাকরি ১ লাখ ৬৫ হাজার, বেকারত্ব কমে ৪.১ শতাংশ

অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাকরি বেড়েছে। বেতন বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের সংসার খরচ এখনো বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে নতুন চাকরি ১ লাখ ৬৫ হাজার, বেকারত্ব কমে ৪.১ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে নতুন চাকরি ১ লাখ ৬৫ হাজার, বেকারত্ব কমে ৪.১ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে অক্টোবরে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খবর এসেছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির কৃষিবহির্ভূত খাতে নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, এই সময়ে নতুন চাকরি বাড়তে পারে মাত্র ৬৫ হাজার। কিন্তু সেই পূর্বাভাসকে অনেকটা ছাড়িয়ে গেছে প্রকৃত নিয়োগের সংখ্যা। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

নতুন এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চাকরি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত আয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কারণ বেতন বাড়লেও দ্রব্যমূল্যের চাপ এখনো অনেক পরিবারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।

সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নিয়োগ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাকরি তৈরি হয়েছে পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে। এই খাতে নতুন করে ৭০ হাজার কর্মসংস্থান যোগ হয়েছে। গত এক বছরের মাসিক গড় বৃদ্ধির তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও উল্লেখযোগ্য নিয়োগ হয়েছে। হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার চাহিদা বাড়ার কারণে এই খাতে কর্মীর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিবহন ও পণ্য সংরক্ষণ খাতে নতুন চাকরি বেড়েছে প্রায় ২৫ হাজার। পণ্য সরবরাহ, পার্সেল পরিবহন, গুদাম পরিচালনা এবং অন্যান্য পরিবহনসংশ্লিষ্ট কাজে এই নিয়োগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন কেনাকাটা ও পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এ ধরনের কাজের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কারখানা খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। অক্টোবরে উৎপাদনশিল্পে নতুন করে ১৯ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি তৈরি এবং ধাতু উৎপাদনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বেড়েছে।

তবে সব খাতে একই ধরনের উন্নতি হয়নি। নির্মাণ, খুচরা বিক্রয়, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, সরকারি চাকরি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বেশ কয়েকটি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। অর্থাৎ কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ সমানভাবে বাড়ছে না।

শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের আগের হিসাবও সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টে আগে ১ লাখ ৩৩ হাজার নতুন চাকরি যোগ হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সংশোধনের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজারে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে আগে ২৯ হাজার চাকরি বৃদ্ধির হিসাব দেওয়া হয়েছিল। সংশোধনের পর তা বেড়ে হয়েছে ৬০ হাজার।

অর্থাৎ শুধু এই দুই মাসের হিসাব সংশোধনের কারণেই আগের প্রতিবেদনের তুলনায় মোট ৮৪ হাজার অতিরিক্ত চাকরি যোগ হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া এবং মৌসুমি হিসাব পুনর্গণনার কারণে সাধারণত এ ধরনের সংশোধন করা হয়।

বেকারত্বের হারেও সামান্য উন্নতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অক্টোবরে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৭১ লাখ মানুষ বেকার রয়েছেন। তবে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত মার্চ মাস থেকে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ফলে এক মাসের এই পরিবর্তনকে বড় ধরনের উন্নতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অক্টোবর মাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এই সময়ে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন করে ৪ লাখ ২১ হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ যারা কাজ করছেন অথবা কাজ খুঁজছেন, এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। একই সময়ে বেকার মানুষের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪১ হাজার। এই পরিবর্তন শ্রমবাজারে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

তবে যারা কাজ খুঁজছেন, তাঁদের সবার জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। যাঁরা অন্তত ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাজ খুঁজেও চাকরি পাননি, তাঁদের এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকার।

এ ছাড়া অর্থনৈতিক কারণে খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। অক্টোবরে এই সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার বেড়ে প্রায় ৪৮ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ অনেক মানুষ পূর্ণকালীন চাকরি করতে চাইলেও পর্যাপ্ত কাজ পাচ্ছেন না অথবা কম সময়ের কাজ করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

বেতনের ক্ষেত্রেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১৪ সেন্ট বেড়ে ৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। এক মাসে মজুরি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে এই বেতন বৃদ্ধির সুফল সব কর্মী সমানভাবে পাচ্ছেন না। কারণ খাবার, বাসাভাড়া, জ্বালানি, চিকিৎসা, পরিবহন এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপ অনেক পরিবারের বাজেটকে কঠিন করে তুলেছে।

এখানে মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ পাওয়া সেপ্টেম্বরের জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে পণ্যমূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে অক্টোবরের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে দুটি হিসাবের সময়কাল এক নয়। তাই সরাসরি তুলনা করে প্রকৃত মজুরি কতটা কমেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবু এই পরিসংখ্যান দেখায়, আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাও সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নতুন কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাকরির সংখ্যা বাড়লে মানুষের আয়, কেনাকাটা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু চাকরির সংখ্যা বাড়লেই অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরে আসে না। চাকরির মান, বেতনের পরিমাণ, কর্মঘণ্টা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে বড় পরিসরে ছাঁটাই না হলেও নতুন চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে অনেকের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন। নিয়োগের গতি আগের তুলনায় দুর্বল থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের ধৈর্য ধরতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ধরন পরিবর্তন করছে।

নতুন চাকরির এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কর্মসংস্থান শক্তিশালী থাকলে অর্থনীতি যে এখনো সক্রিয় রয়েছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে আগামী দিনের কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের দিকে নীতিনির্ধারকদের নজর থাকবে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, গুদাম, উৎপাদনশিল্প, ব্যবসায়িক সেবা এবং অন্যান্য পেশায় কাজ করেন। এসব খাতে নিয়োগ বাড়লে যোগ্য কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, পণ্য সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক সেবায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা নিয়োগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

তবে চাকরির সংখ্যা বেড়েছে বলেই সব প্রতিষ্ঠানে এখনই নিয়োগ চলছে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। প্রত্যেক চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা, অনুমোদিত কর্মসংস্থানের যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা জরুরি।

সব মিলিয়ে অক্টোবরের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক খবর। পূর্বাভাসের চেয়ে এক লাখ বেশি চাকরি যোগ হওয়া, আগের দুই মাসের হিসাব ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন এবং বেকারত্বের হার সামান্য কমে আসা শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, খণ্ডকালীন কাজে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো উদ্বেগের কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূচি অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা আগামী ৪ ডিসেম্বর। সেই প্রতিবেদনে চাকরি বৃদ্ধির গতি কতটা বজায় থাকে, সেটিই হবে দেশটির শ্রমবাজারের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে অক্টোবরে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খবর এসেছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির কৃষিবহির্ভূত খাতে নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, এই সময়ে নতুন চাকরি বাড়তে পারে মাত্র ৬৫ হাজার। কিন্তু সেই পূর্বাভাসকে অনেকটা ছাড়িয়ে গেছে প্রকৃত নিয়োগের সংখ্যা। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

নতুন এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চাকরি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত আয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কারণ বেতন বাড়লেও দ্রব্যমূল্যের চাপ এখনো অনেক পরিবারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।

সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নিয়োগ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাকরি তৈরি হয়েছে পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে। এই খাতে নতুন করে ৭০ হাজার কর্মসংস্থান যোগ হয়েছে। গত এক বছরের মাসিক গড় বৃদ্ধির তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও উল্লেখযোগ্য নিয়োগ হয়েছে। হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার চাহিদা বাড়ার কারণে এই খাতে কর্মীর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিবহন ও পণ্য সংরক্ষণ খাতে নতুন চাকরি বেড়েছে প্রায় ২৫ হাজার। পণ্য সরবরাহ, পার্সেল পরিবহন, গুদাম পরিচালনা এবং অন্যান্য পরিবহনসংশ্লিষ্ট কাজে এই নিয়োগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন কেনাকাটা ও পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এ ধরনের কাজের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কারখানা খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। অক্টোবরে উৎপাদনশিল্পে নতুন করে ১৯ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি তৈরি এবং ধাতু উৎপাদনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বেড়েছে।

তবে সব খাতে একই ধরনের উন্নতি হয়নি। নির্মাণ, খুচরা বিক্রয়, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, সরকারি চাকরি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বেশ কয়েকটি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। অর্থাৎ কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ সমানভাবে বাড়ছে না।

শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের আগের হিসাবও সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টে আগে ১ লাখ ৩৩ হাজার নতুন চাকরি যোগ হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সংশোধনের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজারে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে আগে ২৯ হাজার চাকরি বৃদ্ধির হিসাব দেওয়া হয়েছিল। সংশোধনের পর তা বেড়ে হয়েছে ৬০ হাজার।

অর্থাৎ শুধু এই দুই মাসের হিসাব সংশোধনের কারণেই আগের প্রতিবেদনের তুলনায় মোট ৮৪ হাজার অতিরিক্ত চাকরি যোগ হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া এবং মৌসুমি হিসাব পুনর্গণনার কারণে সাধারণত এ ধরনের সংশোধন করা হয়।

বেকারত্বের হারেও সামান্য উন্নতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অক্টোবরে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৭১ লাখ মানুষ বেকার রয়েছেন। তবে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত মার্চ মাস থেকে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ফলে এক মাসের এই পরিবর্তনকে বড় ধরনের উন্নতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অক্টোবর মাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এই সময়ে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন করে ৪ লাখ ২১ হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ যারা কাজ করছেন অথবা কাজ খুঁজছেন, এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। একই সময়ে বেকার মানুষের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪১ হাজার। এই পরিবর্তন শ্রমবাজারে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

তবে যারা কাজ খুঁজছেন, তাঁদের সবার জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। যাঁরা অন্তত ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাজ খুঁজেও চাকরি পাননি, তাঁদের এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকার।

এ ছাড়া অর্থনৈতিক কারণে খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। অক্টোবরে এই সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার বেড়ে প্রায় ৪৮ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ অনেক মানুষ পূর্ণকালীন চাকরি করতে চাইলেও পর্যাপ্ত কাজ পাচ্ছেন না অথবা কম সময়ের কাজ করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

বেতনের ক্ষেত্রেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১৪ সেন্ট বেড়ে ৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। এক মাসে মজুরি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে এই বেতন বৃদ্ধির সুফল সব কর্মী সমানভাবে পাচ্ছেন না। কারণ খাবার, বাসাভাড়া, জ্বালানি, চিকিৎসা, পরিবহন এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপ অনেক পরিবারের বাজেটকে কঠিন করে তুলেছে।

এখানে মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ পাওয়া সেপ্টেম্বরের জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে পণ্যমূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে অক্টোবরের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে দুটি হিসাবের সময়কাল এক নয়। তাই সরাসরি তুলনা করে প্রকৃত মজুরি কতটা কমেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবু এই পরিসংখ্যান দেখায়, আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাও সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নতুন কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাকরির সংখ্যা বাড়লে মানুষের আয়, কেনাকাটা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু চাকরির সংখ্যা বাড়লেই অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরে আসে না। চাকরির মান, বেতনের পরিমাণ, কর্মঘণ্টা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে বড় পরিসরে ছাঁটাই না হলেও নতুন চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে অনেকের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন। নিয়োগের গতি আগের তুলনায় দুর্বল থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের ধৈর্য ধরতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ধরন পরিবর্তন করছে।

নতুন চাকরির এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কর্মসংস্থান শক্তিশালী থাকলে অর্থনীতি যে এখনো সক্রিয় রয়েছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে আগামী দিনের কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের দিকে নীতিনির্ধারকদের নজর থাকবে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, গুদাম, উৎপাদনশিল্প, ব্যবসায়িক সেবা এবং অন্যান্য পেশায় কাজ করেন। এসব খাতে নিয়োগ বাড়লে যোগ্য কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, পণ্য সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক সেবায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা নিয়োগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

তবে চাকরির সংখ্যা বেড়েছে বলেই সব প্রতিষ্ঠানে এখনই নিয়োগ চলছে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। প্রত্যেক চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা, অনুমোদিত কর্মসংস্থানের যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা জরুরি।

সব মিলিয়ে অক্টোবরের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক খবর। পূর্বাভাসের চেয়ে এক লাখ বেশি চাকরি যোগ হওয়া, আগের দুই মাসের হিসাব ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন এবং বেকারত্বের হার সামান্য কমে আসা শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, খণ্ডকালীন কাজে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো উদ্বেগের কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূচি অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা আগামী ৪ ডিসেম্বর। সেই প্রতিবেদনে চাকরি বৃদ্ধির গতি কতটা বজায় থাকে, সেটিই হবে দেশটির শ্রমবাজারের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের চাকরিআমেরিকার অর্থনীতিনতুন কর্মসংস্থানবেকারত্বপ্রবাসী বাংলাদেশিযুক্তরাষ্ট্রের বেতনচাকরির বাজারআমেরিকায় চাকরি।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।