সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জর্জিয়া ও টেনেসিতে ভয়াবহ বন্যা, সড়ক বন্ধ, পানিবন্দি পরিবার, চলছে জরুরি উদ্ধার অভিযানইরান যুদ্ধের খেসারত দিল রিপাবলিকানরা, নির্বাচনী পরাজয়ের দায় স্বীকার করলেন ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ পতন, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ের জন্য ভোটারদের দায়ী করলেন ট্রাম্প‘মৃত্যুর ভয় নেই, ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরব’ এপিকে জানালেন শেখ হাসিনা১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনি

বন্যায় ঘরবাড়ি ও খামার হারিয়ে দিশেহারা প্রবীণ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফা বন্যায় ঘরবাড়ি, খামার ও জীবিকার বড় অংশ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ৬০ বছর বয়সী ম্যাথিউ মার্টিনেজ।

সব হারিয়ে খোলা মাঠে ম্যাথিউ মার্টিনেজ।
সব হারিয়ে খোলা মাঠে ম্যাথিউ মার্টিনেজ।

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় নিজের বাড়ি ও খামারের বড় অংশ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ৬০ বছর বয়সী ম্যাথিউ মার্টিনেজ। কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে তাঁর বসতঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোয়ালঘর ও খামার। পানির স্রোতে ভেসে গেছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, নষ্ট হয়েছে জমির মাটি। এমনকি তাঁর একটি ঘোড়ারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলোরাডোর এডিথ এলাকায় নাভাহো নদীর কাছাকাছি বসবাস করেন মার্টিনেজ। জীবনের প্রায় ৬০ বছর তিনি এই এলাকাতেই কাটিয়েছেন। আগে কখনো এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে আশপাশের বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে।

মার্টিনেজের বাড়িতে এখন কাদা ও বন্যার পানির চিহ্ন। ঘরের ভেতর জমে আছে পলি ও কাদা। খামারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেঙে গেছে পশু রাখার জায়গা। তাঁর ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম পানির স্রোতে ভেসে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে তাঁর ক্ষতির পরিমাণ অন্তত দুই লাখ ডলার বলে জানিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তাঁর বাড়ির জন্য বন্যা বিমা ছিল না। নদীর খুব কাছে হওয়ায় বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর বাড়ির জন্য বন্যা বিমার সুবিধা দিতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্টিনেজ। ফলে বিপুল ক্ষতির পর বাড়ি মেরামত বা নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক নিরাপত্তা তাঁর হাতে নেই।

বন্যার সময় তিনি ও তাঁর বাগদত্তা প্রথমে ছেলের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও পরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এরপর তাঁরা একটি হোটেলে ওঠেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় শেষ পর্যন্ত অন্য একটি অস্থায়ী আবাসনে যেতে হয় তাঁদের। এখন সেই অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থার সহায়তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে কোথায় থাকবেন, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন মার্টিনেজ।

শুধু ঘরবাড়ি হারানোই নয়, ভবিষ্যতে জীবিকা চালানোর পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। বন্যার পানিতে তাঁর জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি ধুয়ে গেছে। ফলে আগামী বছর অবশিষ্ট পশুগুলোর খাবার জোগাড় করাও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বাড়ি থেকে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজও ব্যয়বহুল। একবার ময়লা ও ধ্বংসাবশেষ ফেলার জায়গায় নিতে প্রায় ৩০০ ডলার খরচ হতে পারে। পুরো বাড়ি ও খামার পরিষ্কার করতে কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। অস্ত্রোপচারের পর হাঁটুর ব্যথা নিয়েও তাঁকে এসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

মার্টিনেজের মতো অনেক পরিবারের জন্য বন্যা শেষ হওয়ার অর্থ বিপদ শেষ হওয়া নয়। পানি নেমে যাওয়ার পর শুরু হয় ঘর পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ পুনরুদ্ধার, থাকার জায়গা খোঁজা এবং নতুন করে জীবিকা গড়ে তোলার কঠিন লড়াই। বিশেষ করে যাঁদের বন্যা বিমা নেই, তাঁদের জন্য এই লড়াই আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলতে গিয়ে মার্টিনেজের আশঙ্কা, আগের স্বাভাবিক জীবন হয়তো আর কখনো ফিরে আসবে না। তাঁর এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু ঘরবাড়ি ধ্বংস করে না—একটি পরিবারের নিরাপত্তা, সঞ্চয়, জীবিকা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নও ভেঙে দিতে পারে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রকলোরাডোবন্যাপ্রাকৃতিকদুর্যোগক্ষতিগ্রস্তপরিবারকৃষিখামারমানবিকগল্প

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।