সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনিট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটের রায়, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলেকলেজে শিশু পরিচর্যার অনুদান কমায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবকব্রুকলিনে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত ৯; তদন্তে দমকল বিভাগযুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন হচ্ছে, নতুন নিয়মে বাড়ছে কড়াকড়ি

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা, বাড়ছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা, বাড়ছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা, বাড়ছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কেও নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে দলটি। ফলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগামী দুই বছর বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৫ নভেম্বর প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের বিপর্যয় চীনের জন্য স্বল্পমেয়াদে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি চীনের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে এমন কেউ আসতে পারেন, যিনি চীনের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন।

নির্বাচনের ফলাফলের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের চীননীতিতে কতটা পরিবর্তন আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে এখনো পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা, শুল্ক আরোপ এবং আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজনৈতিক বাধা বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণকারী সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যয়, বিদেশি সহায়তা, কূটনৈতিক নিয়োগ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ডেমোক্র্যাটরা চাইলেই ট্রাম্পের সব চীনবিষয়ক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবেন। প্রেসিডেন্টের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। আবার নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় শুল্ক ও পররাষ্ট্রনীতির অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। ফলে আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চীননীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে বাণিজ্য। গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক আরোপ, পাল্টা শুল্ক, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ চলছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে একটি সাময়িক বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

দুই দেশের মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন করে আলোচনা এবং সমঝোতা করার জন্য উভয় দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। চীন মনে করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে ট্রাম্প এখন নতুন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকবেন। এই পরিস্থিতিতে বেইজিং শুল্ক কমানো এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে পারে।

তবে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানও চীনের জন্য পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থের সঙ্গে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যনীতি জড়িত। ফলে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এসে সব শুল্ক প্রত্যাহার করবে, এমন সম্ভাবনা কম। বরং তারা ট্রাম্পের বাণিজ্যিক চুক্তি ও সিদ্ধান্তগুলো খতিয়ে দেখতে পারে।

দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় তাইওয়ান। স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী এবং দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।

তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহের একটি প্যাকেজ নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই অস্ত্র সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছে। চীনের সঙ্গে আলোচনায় এটিকে দর-কষাকষির উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করার কথা বলেছেন ট্রাম্প। কিন্তু ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস নতুন করে অস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এমন সিদ্ধান্ত নিলে বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে। কারণ তাইওয়ান ইস্যুকে চীন নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাইওয়ানের নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই দলের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে।

প্রযুক্তি খাতেও দুই দেশের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার চিপ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে নতুন কংগ্রেস চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি চীনের হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এদিকে চীন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বাজার তৈরি এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ খুঁজছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে চীন অর্থনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করতে পারে।

তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্বলতা চীনের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপের মুখে পড়ে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চীনকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এতে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাণিজ্যিক সমঝোতা, শুল্ক, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পেতে পারে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল চীনের জন্য একদিকে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী হতে পারে। কিন্তু তাইওয়ান, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সামরিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং দুই দেশ নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কূটনৈতিক সমঝোতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং তাইওয়ানকে ঘিরে দুই দেশের সিদ্ধান্তের ওপর।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রচীনডোনাল্ড ট্রাম্পশি জিনপিংমধ্যবর্তী নির্বাচনমার্কিন রাজনীতিআন্তর্জাতিক সম্পর্কবাণিজ্যযুদ্ধতাইওয়ানবিশ্বরাজনীতি

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।