সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনিট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটের রায়, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলেকলেজে শিশু পরিচর্যার অনুদান কমায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবকব্রুকলিনে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত ৯; তদন্তে দমকল বিভাগযুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন হচ্ছে, নতুন নিয়মে বাড়ছে কড়াকড়ি

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে গোপালগঞ্জে ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ

বিদ্যালয়ের ভেতরে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের পর অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে গোপালগঞ্জে ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ
‘জয় বাংলা’ স্লোগানে গোপালগঞ্জে ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ

গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন শ্রেণির নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ভেতরে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে টিফিনের পর বিদ্যালয়ের একটি করিডরে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেয়। এ সময় ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সময় শিক্ষার্থীদের স্লোগান দেওয়ার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার পরদিন ৭ অক্টোবর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিকে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভূমিকা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ও রাইজিংবিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়। তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ২৯ অক্টোবর এবং ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তের তারিখ ১ নভেম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রতিবেদন জমা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যে কিছুটা অমিল রয়েছে।

ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবম শ্রেণির সাতজন, অষ্টম শ্রেণির একজন এবং দশম শ্রেণির একজন রয়েছে। অর্থাৎ মোট নয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক জানান, ঘটনার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। পরে অন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও তাঁকে এ বিষয়ে ফোন করা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বয়স ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ওপর এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া। বিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ বা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ভূমিকা, ঘটনার প্রকৃতি এবং প্রযোজ্য শিক্ষাবিধি যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

বিশেষ করে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত আচরণ বজায় রাখাও জরুরি।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, ছাড়পত্রের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথিও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের এ ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ওই নয় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা।


ট্যাগ: গোপালগঞ্জজয় বাংলাসরকারি জেলা স্কুলনয় শিক্ষার্থীশিক্ষার্থীকে টিসিরাজনৈতিক স্লোগানবিদ্যালয়শিক্ষা সংবাদবাংলাদেশ।

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।