যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় আশাবাদী কাতার, সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত
৮,৬৪৭ বার পড়া হয়েছে ৯ মিনিটে পড়ুন
কাতার আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরের মধ্যেও দুই দেশ কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছে দোহা। তবে পরিস্থিতির যেকোনো ধরনের সামরিক অবনতি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল আনসারি। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমঝোতার পথ খুঁজছে কাতার। কাতারের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার খবর দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। এই অঞ্চল আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও সমুদ্রপথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল আনসারিকে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়, সোমবার কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হামলা ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে কি না। হামলার পর ইরান আলোচনায় বসার আগ্রহ হারিয়েছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, কাতারের আগের মধ্যস্থতার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, মাটিতে সামরিক উত্তেজনা যত বাড়ে, আলোচনার ক্ষেত্রে তত নতুন জটিলতা তৈরি হয়। অর্থাৎ সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক আলোচনা একই সময়ে চলতে থাকলে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও কাতার আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করছে না। তিনি আরও জানান, আগের রাতেই কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে গিয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কাতারের প্রতিনিধিদল বৈঠক শেষে দোহায় ফিরে আসে। কাতারের সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিনিধিদলটি সোমবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তেহরানে পৌঁছায়। সেখানে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দূরত্ব কমানোর সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে মতবিনিময় হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটি দোহায় ফিরে আসে।
আল আনসারি বৈঠকটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই পক্ষের মধ্যে থাকা মতপার্থক্য কমিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরি করা। কাতার মনে করছে, দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব বিবেচনা করার বিষয়টি আশাব্যঞ্জক। তবে এই বৈঠককে চূড়ান্ত সমঝোতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কাতারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। বরং দুই দেশ এখনো মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে তাদের অবস্থানের পার্থক্যও রয়ে গেছে। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় সরাসরি ও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান করছেন। কাতার শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের মতামত সংগ্রহ এবং সমাধানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে।
আল আনসারি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক প্রতিবেশী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাতারের যোগাযোগ প্রায় প্রতি ঘণ্টায় হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধারণা ও প্রস্তাব বিনিময় করা হচ্ছে। কাতারের লক্ষ্য হচ্ছে, উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখা। কাতারের মধ্যস্থতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা তৈরি করা। দ্য পেনিনসুলা কাতারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার এমন একটি প্রাথমিক সমঝোতার চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি হতে পারে। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আলোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। অন্তর্বর্তী সমঝোতা বলতে এমন একটি প্রাথমিক ব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে দুই দেশ সব বিরোধ একসঙ্গে সমাধান না করেও কিছু বিষয়ে একমত হতে পারে। যেমন সামরিক উত্তেজনা কমানো, নতুন হামলা থেকে বিরত থাকা, যোগাযোগের পথ সচল রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো। তবে এসব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য কাতার প্রকাশ করেনি। কাতারের এই উদ্যোগের পেছনে মূল বিবেচনা হলো, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও বিরোধের মধ্যে সরাসরি বড় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন। তাই প্রথমে ছোট ছোট বিষয়ে সমঝোতা তৈরি করা গেলে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়তে পারে। এরপর ধাপে ধাপে বড় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ বন্ধ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান নির্ভর করছে এসব দাবির অগ্রগতির ওপর। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাবকে সন্তোষজনক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের উত্থাপিত শর্তগুলো স্পষ্টভাবে বিবেচনা করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপও অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র। আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাটি সীমিত ছিল এবং এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয়। তবে হামলার প্রকৃতি ও পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এটিকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে সামরিক তৎপরতা এবং সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ কারণে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কাতার হামলার ঘটনাকে উপেক্ষা করছে না। বরং দেশটির বক্তব্য হচ্ছে, সামরিক উত্তেজনা আলোচনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও এই আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিভিন্ন দেশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কাতার নিজেও জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। তাই হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা দেশটির অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আল আনসারি এ প্রসঙ্গে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। কাতারের অবস্থান হলো, কোনো দেশের জাহাজের চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল মায়েদাকে ঘিরে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন। কাতার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, উপসাগরীয় জলসীমায় কাতার কিংবা অন্য কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। এদিকে কাতার একা এই মধ্যস্থতার কাজ করছে না। পাকিস্তানসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করছে দোহা। কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করছেন। তবে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তেহরান মনে করছে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব ওয়াশিংটনের ওপর। এ পরিস্থিতিতে কাতারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং নতুন সামরিক সংঘাত ঠেকানো। কারণ আলোচনার কোনো পর্যায়ে হামলা বা পাল্টা হামলা শুরু হলে আগে থেকে তৈরি হওয়া সমঝোতার সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ শুধু দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই পক্ষকেই বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে কাতারের বক্তব্যে আশার জায়গা হলো, উত্তেজনার মধ্যেও যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। তেহরানে তিন ঘণ্টার বৈঠক, প্রস্তাব আদান-প্রদান এবং দুই পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করার বিষয়গুলো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সচল থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাতার এখনই কোনো চূড়ান্ত ফলাফলের ঘোষণা দিতে চায় না। দেশটির অবস্থান, আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং দুই পক্ষকে এমন একটি সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে হবে, যাতে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি কমে আসে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য এই আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী কর্মীর জীবন ও জীবিকাও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের জন্যও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি। যদিও কূটনৈতিক আলোচনার এই পর্যায়ে প্রবাসীদের জন্য কোনো নতুন বিধিনিষেধ বা জরুরি নির্দেশনার ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবু আঞ্চলিক সংঘাত বাড়লে বিমান চলাচল, জাহাজ চলাচল, জ্বালানি বাজার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু কেশম দ্বীপে সামরিক হামলা, ইরানের পাল্টা অবস্থান এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস আলোচনাকে কঠিন করে তুলেছে। কাতার সেই জটিলতা কাটিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে চাইছে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে ওয়াশিংটন ও তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাস্তবে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত থাকে তার ওপর।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।