ট্রাম্পের ঘোষণা, বছরের শেষে ইসরায়েলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র
৯,৬৪৮ বার পড়া হয়েছে ৮ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে বছরে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ইসরায়েল প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে। এমনকি বিশেষ প্রয়োজনে দেশটিকে সহায়তা করার সুযোগও খোলা রাখার কথা বলেছেন তিনি। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন সকালে ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে তাঁদের সমঝোতা হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, ইসরায়েল এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী একটি দেশ। তাই দেশটির আর আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বছরে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু তাঁর মতে, দেশটি এখন নিজের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই প্রতিরক্ষা খরচ বহন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল একটি সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠেছে। দেশটির আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে? ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, এই সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করার প্রস্তাব তুলেছিলেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহু তাঁকে বলেছেন, ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিয়মিত সহায়তা না নেওয়াই উপযুক্ত হতে পারে। দুই নেতা কয়েক বছর ধরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই সমঝোতার লিখিত কোনো নথি, নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রকাশ করা হয়নি। নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেও ঘোষণার পরপরই বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ কারণে ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, চুক্তির বাস্তব পরিবর্তন সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বর্তমানে ইসরায়েলকে কত টাকা দেয় যুক্তরাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দশ বছরের জন্য করা এই সমঝোতার মোট আর্থিক পরিমাণ ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সামরিক অর্থায়নের আওতায় এবং প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য নির্ধারিত। এই অর্থ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার বিষয় রয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে চার বিলিয়ন ডলারের কথা বলেছেন। এটি প্রচলিত বার্ষিক সামরিক সহায়তার প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি একটি গোলাকার হিসাব। রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমান সমঝোতার মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হলে বিদ্যমান চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে। অস্ত্র বিক্রি কি বন্ধ হয়ে যাবে? ট্রাম্পের ঘোষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার কথা বলেনি। বরং তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র কিনতে পারবে। অর্থাৎ নিয়মিত সহায়তা বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি। সামরিক সহায়তা এবং সরাসরি অস্ত্র বিক্রি এক বিষয় নয়। সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ বা নির্দিষ্ট অর্থায়ন সুবিধা দেয়, যার মাধ্যমে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারে। অন্যদিকে সরাসরি অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করতে হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কোন কোন অস্ত্র বিক্রি করবে, কী শর্তে বিক্রি করবে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে কী ধরনের সহায়তা দেবে, সেসব বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত জানাননি। এ কারণে তাঁর ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি কেনার ক্ষেত্রে দেশটিকে নিজস্ব অর্থের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে ঘোষণার সম্পর্ক ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের অংশ। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন প্রার্থী ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ দেওয়ার সমালোচনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশের সাধারণ মানুষ যখন জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন, তখন বিদেশে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা উচিত। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গও তুলেছেন। ট্রাম্পের যুক্তি, ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিলে এই রাজনৈতিক বিতর্কের একটি বড় বিষয় দুর্বল হয়ে পড়বে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ঘোষণাটির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের অর্থনীতি কি সহায়তা ছাড়াই চলতে পারবে? ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উন্নত অর্থনীতির দেশ। দেশটির প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাত যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে উন্নত অর্থনীতি থাকলেই সামরিক সহায়তার গুরুত্ব শেষ হয়ে যায় না। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, অস্ত্র এবং সামরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, উন্নত যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলের জন্য এই সহায়তা শুধু অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, বরং কৌশলগত নিরাপত্তারও একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের কারণে ইসরায়েল তুলনামূলক কম নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পেরেছে।
সহায়তা বন্ধ হলে দেশটিকে প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করতে হতে পারে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অন্যান্য সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয়ের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগও পেতে পারে। দেশটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র উৎপাদন করে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া স্বল্প সময়ে সব ধরনের সামরিক চাহিদা পূরণ করা সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ট্রাম্পের ঘোষণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা শুধু দুই নেতার রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, অনুমোদিত বাজেট এবং বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া। কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থায়ন ও বিদ্যমান সমঝোতার বিষয়গুলো বিবেচনা না করে রাতারাতি সব সহায়তা বন্ধ করা সহজ নয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও এখানে অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম বড় ক্রেতা। সহায়তার অর্থের একটি বড় অংশ আবার যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা শিল্পেই ব্যয় হয়। তাই সহায়তা বন্ধ হলেও অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার যে কথা ট্রাম্প বলেছেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহায়তা বন্ধের ঘোষণা কার্যকর করতে হলে বিদ্যমান সমঝোতা পরিবর্তনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সামরিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি করতে হতে পারে।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? ট্রাম্পের এই ঘোষণার কারণে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুর্বল হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের একটি অংশ মনে করতে পারেন, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানো ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক হতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, ইসরায়েল কি বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এত বড় পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত? মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ হলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক কি নতুন মোড় নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নে দুই দেশের অংশীদারত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন এবং সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মতপার্থক্য বেড়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের কারণে মার্কিন জনগণের একটি অংশের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা জোরালো হয়েছে। এ অবস্থায় ট্রাম্পের ঘোষণা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সামগ্রিক সম্পর্কের অবসান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে ইসরায়েলকে সহায়তা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সত্যিই নিয়মিত সামরিক সহায়তা বন্ধ হবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, বিদ্যমান চুক্তির পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভূমিকার ওপর। এ মুহূর্তে নিশ্চিত বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ঘোষণা কার্যকর করার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।