অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
সিনেটের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটদের ১৭ আসন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের লক্ষ্য ১৯টি আসন
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ১৭ আসন জয়ের হিসাব সঠিক; রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে প্রয়োজন ১৯ আসন, উপ-রাষ্ট্রপতির সমর্থনসহ ৫০ আসন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দেশটির আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করবে আগামী দুই বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কতটা নির্বিঘ্নে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ করতে পারবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের ১৭টি এবং রিপাবলিকানদের ২০টি আসন প্রয়োজন বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাগত সংশোধন রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের ১৭ আসনের হিসাব সঠিক হলেও রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ২০টি নয়, ১৯টি আসন জয়ই যথেষ্ট হতে পারে।
২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সিনেটের ৩৫টি আসনের মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোটবদ্ধ দুই স্বতন্ত্র সদস্যসহ বিরোধী পক্ষের আসন ছিল ৪৭টি। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসনের নিট লাভ প্রয়োজন ছিল। রয়টার্সের নির্বাচনী বিশ্লেষণেও এই হিসাব নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মোট ১০০টি আসন রয়েছে। সাধারণভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৫১টি আসন প্রয়োজন। তবে কোনো দলের আসনসংখ্যা ৫০ হলে এবং ভোটের ফল সমান হলে উপ-রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্তমূলক ভোট দিতে পারেন। বর্তমানে উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকান দলের সদস্য। ফলে রিপাবলিকানদের জন্য ৫০টি আসনও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে।
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন নির্বাচনের আওতায় ছিল। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি আসন এবং তাদের সঙ্গে থাকা দুই স্বতন্ত্র সদস্যের মধ্যে ১৩টি আসন নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ছিল। বাকি ৬৫টি আসন এই নির্বাচনে ভোটের আওতায় ছিল না। এই হিসাব অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের ১৭টি নির্বাচনী আসন জিতলে তাদের মোট আসনসংখ্যা ৫১-এ পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ১৯টি নির্বাচনী আসন জিতলে তাদের মোট আসনসংখ্যা ৫০ হতে পারে। উপ-রাষ্ট্রপতির সমর্থন থাকলে এই অবস্থায়ও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে।
অর্থাৎ ছবির ১৭ আসনের হিসাবটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য সঠিক। তবে রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে ২০ আসনের পরিবর্তে ১৯ আসনের হিসাবটি অধিক নির্ভুল। নির্বাচনে কতটি আসন জিততে হবে এবং বর্তমান আসনসংখ্যা থেকে কতটি আসন বাড়াতে হবে—এই দুটি বিষয় আলাদা করে বোঝা জরুরি। ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসনের নিট লাভের হিসাবও সঠিক, কারণ নির্বাচনের আগে তাদের সঙ্গে থাকা পক্ষের আসনসংখ্যা ছিল ৪৭।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। আলাস্কা, মেইন, কানসাস, উত্তর ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আইওয়া ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের আসন বাড়ানোর সুযোগ ছিল। অন্যদিকে মিশিগান, জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো অঙ্গরাজ্যে নিজেদের আসন ধরে রাখাও ছিল দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত নির্বাচনী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে সিনেটের আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে এনেছেন। জর্জিয়ায় জন অসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপাসের জয়ও ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এসব জয় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলটির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করেছে।
তবে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল এবং চূড়ান্ত আসনবিন্যাসের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের হিসাব এবং আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে অল্প ব্যবধানের ফলাফল থাকলে গণনা ও প্রত্যয়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ শুধু দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্ন নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নীতিনির্ধারণেও বড় প্রভাব ফেলে। সিনেটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারক, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সিনেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ থাকবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও আইন প্রণয়নে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ছবিতে ডেমোক্র্যাটদের ১৭টি আসনের হিসাব সঠিক হলেও রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে ২০টির পরিবর্তে ১৯টি আসন জয়ের হিসাবই যথাযথ। তাই নির্বাচনী তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আসনসংখ্যা, বর্তমান দলীয় ভারসাম্য এবং উপ-রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তমূলক ভোটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।

মেট্রো ডেট্রয়েটে নির্বাচনের ভোট শুরু, ভোটারদের জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ করল কর্তৃপক্ষ

জর্জিয়ায় রিপাবলিকানদের হারিয়ে আবারও সিনেটর নির্বাচিত হলেন জন অসফ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গণনা শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।