সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত ম্যারাথন আজ, পাঁচ বরোর সড়ক ও সেতুতে যান চলাচল বন্ধমধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৭ শতাংশ, ইতিবাচক সমর্থন মাত্র আট রাজ্যেজ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাপে টাকার দর ১২৪ টাকায়, উদ্বেগ বাড়ছেএইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু, ৭ নভেম্বরের পর আর মিলবে না আবেদনের সুযোগনভেম্বরেও বাড়ল না জ্বালানি তেলের দাম, আগের মূল্যেই মিলবে চার ধরনের জ্বালানি

জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাপে টাকার দর ১২৪ টাকায়, উদ্বেগ বাড়ছে

অক্টোবরে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমদানিতে ১০০ কোটি ডলার বাড়তি ব্যয় হওয়ায় মুদ্রাবাজারে চাপ বেড়েছে, ব্যাংক দর ১২৪ টাকায় পৌঁছেছে।

জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাপে টাকার দর ১২৪ টাকায়, উদ্বেগ বাড়ছে
জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাপে টাকার দর ১২৪ টাকায়, উদ্বেগ বাড়ছে

জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। অক্টোবর মাসে এসব আমদানির বিল পরিশোধে আগের হিসাবের তুলনায় অতিরিক্ত ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বেড়ে ১২৪ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। ফলে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে সরকারি খাতের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমদানির দায় মেটাতে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অথচ মাসের শুরুতে এ খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশের ডলারের বাজারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম দিনে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৯২ পয়সা। মাসের শেষ দিকে তা বেড়ে ১২৪ টাকার ঘরে পৌঁছায়। ২৯ অক্টোবর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক গড় বিনিময় হার ছিল ১২৪ টাকা ২১ পয়সার বেশি। ফলে মাসের ব্যবধানে টাকার মূল্যমান আরও দুর্বল হয়েছে।

ডলারের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে শুধু জ্বালানি আমদানিই দায়ী নয়। আমদানির সামগ্রিক চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দায় পরিশোধ, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন এবং প্রবাসী আয় আসার সময়গত ওঠানামাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। অন্যদিকে, মাসের মাঝামাঝি ও শেষ দিকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তুলনামূলক কমে গেলে বাজারে সাময়িক সংকট তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই দফায় নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে মোট ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা।

এর আগে ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করে। ওই বিক্রির বিপরীতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের চাহিদা এসেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলার ১২৪ থেকে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরে সরবরাহ করে। চাহিদা ও সরবরাহের এই ব্যবধান বাজারে ডলারের চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করে।

আমদানি ব্যয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশের জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক নির্ভরতা। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা পরিচালনা, পরিবহন এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। একই পরিমাণ জ্বালানি কিনতে আগের তুলনায় বেশি ডলার প্রয়োজন হয়।

ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি বিল পরিশোধ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ২৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ২৩৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৬৮ কোটি ডলার, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলার ৩৩ সেন্টে পৌঁছেছিল। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কা এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রেও ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পুরোনো চুক্তির আওতায় কিছু সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রতি একক গ্যাস প্রায় ১৪ ডলারে কেনা সম্ভব হলেও নতুন কিছু দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দাম ৩০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে গ্যাস আমদানির জন্য আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে ডলারের বাজারে ব্যাংকিং ও খোলাবাজারের মধ্যে ব্যবধানও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ১ নভেম্বর প্রকাশিত অবজারভার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ অক্টোবর ঢাকার খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২৮ থেকে ১২৮ টাকা ২০ পয়সায়। বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক হিসাবে ব্যাংকিং বাজারে দর ছিল প্রায় ১২৪ টাকা ২২ পয়সা। তবে দুটি দর একই ধরনের বাজারের নয়; একটি ব্যাংকিং লেনদেনের হিসাব, অন্যটি খোলাবাজারের প্রচলিত দর।

ডলারের দাম বাড়লে আমদানিকারকদের পণ্য কেনার খরচ বেড়ে যায়। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল, গম, ডাল, সার, শিল্পের কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ব্যবসায়ীরা এই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ পড়ে। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ ছাড়া বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য ডলার কিনতে হয় এমন পরিবারগুলোকেও বেশি টাকা ব্যয় করতে হতে পারে। বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দায় মেটানোর ক্ষেত্রেও ডলারের উচ্চমূল্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

তবে পরিস্থিতির মধ্যে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৭ দিনে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৫৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতও আগের বছরের তুলনায় উন্নত অবস্থানে ছিল। ১৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১৫৪ কোটি ডলার। ফলে বাজারের চাপ থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রার সামগ্রিক অবস্থাকে শুধু ডলারের দৈনিক দর দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না।

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি ব্যয়ের পরিকল্পনা, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় আনার প্রবাহ শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

অক্টোবরের অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম, আমদানির চাহিদা এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ অনুকূলে না থাকলে আগামী দিনগুলোতেও টাকার বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


ট্যাগ: বাংলাদেশের অর্থনীতিডলারের বাজারটাকার অবমূল্যায়নজ্বালানি আমদানিআমদানি ব্যয়বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভবাংলাদেশ ব্যাংকডলার সংকটজ্বালানি

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।