সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটের ব্যালট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াইয়ে গভর্নর নিউসমনিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত ম্যারাথন আজ, পাঁচ বরোর সড়ক ও সেতুতে যান চলাচল বন্ধমধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৭ শতাংশ, ইতিবাচক সমর্থন মাত্র আট রাজ্যেজ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাপে টাকার দর ১২৪ টাকায়, উদ্বেগ বাড়ছেএইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু, ৭ নভেম্বরের পর আর মিলবে না আবেদনের সুযোগ

মার্কিন শর্তে সমঝোতা হলেই ৪৮ ঘণ্টায় খুলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, জানাল ইরান

কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই শর্ত পূরণ হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে তেহরান।

মার্কিন শর্তে সমঝোতা হলেই ৪৮ ঘণ্টায় খুলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, জানাল ইরান
মার্কিন শর্তে সমঝোতা হলেই ৪৮ ঘণ্টায় খুলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, জানাল ইরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দুই দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ওয়াশিংটনকে তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

রবিবার, ১ নভেম্বর, আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণে সম্মত হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের কূটনীতিকেরা কাতারে অবস্থান করে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে তেহরান। আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৃহত্তর সংলাপের উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন ইরানের শর্তে সম্মত হওয়ার পরই সরাসরি অথবা পরোক্ষ আলোচনার ধরন নির্ধারণ করা হবে।

রয়টার্সের ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিরা কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এসব যোগাযোগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে।

কাতার এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থা তৈরির জন্য সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই পক্ষ প্রতিদিন কিছু পদক্ষেপ নেবে, যাতে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়। তবে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান প্রস্তাবটিকে যথেষ্ট মনে করেনি। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

ইরানের নিজস্ব প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ ব্যবহারের অনুমোদন। এসব বিষয় নিয়ে সমঝোতা হলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলছে তেহরান। তবে সব শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সম্মতির কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের ভাষায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখার কথা জানিয়েছেন। প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ইরান ও ওমানের সম্মতিতে একটি নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যৎ সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে সংঘাতের সমাধান করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়ো করছেন না বলে জানিয়েছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও সমঝোতা কত দ্রুত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

সংঘাতের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভাব্য মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান জানিয়েছে। ফলে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপও পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই সরু জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই নৌপথে দীর্ঘদিন অচলাবস্থা চললে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জ্বালানি আমদানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার ব্যয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি থাকবে। এর প্রভাব দেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। তবে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে আমদানির উৎস, বিকল্প সরবরাহপথ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।

জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে হামলা এবং নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এই পথ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দুই দিনের মধ্যে নৌপথটি চালু হওয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্ত নিয়ে সমঝোতার ওপর। এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। তাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালি খুলে যাওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত ঘটনা নয়, বরং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার একটি সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ট্যাগ: ইরানযুক্তরাষ্ট্রহরমুজ প্রণালিকাতারমধ্যপ্রাচ্যআব্বাস আরাঘচিডোনাল্ড ট্রাম্পজ্বালানি তেলআন্তর্জাতিক বাণিজ্যকূটনৈতিক আলোচনাবিশ্ব অর্থনীতি

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।