সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটের ব্যালট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াইয়ে গভর্নর নিউসমনিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত ম্যারাথন আজ, পাঁচ বরোর সড়ক ও সেতুতে যান চলাচল বন্ধমধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৭ শতাংশ, ইতিবাচক সমর্থন মাত্র আট রাজ্যেজ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাপে টাকার দর ১২৪ টাকায়, উদ্বেগ বাড়ছেএইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু, ৭ নভেম্বরের পর আর মিলবে না আবেদনের সুযোগ

বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কায় বাড়ছে উপকূলীয় মানুষের উদ্বেগ এখন

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা, চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত জারি, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ আবহাওয়া অধিদপ্তরের।

বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কায় বাড়ছে উপকূলীয় মানুষের উদ্বেগ এখন
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কায় বাড়ছে উপকূলীয় মানুষের উদ্বেগ এখন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে দূরবর্তী সতর্কসংকেত ১ দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১ নভেম্বর আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

নিম্নচাপটির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের আশপাশে সাগর উত্তাল রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসেও বঙ্গোপসাগরের এই আবহাওয়াব্যবস্থার শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। সংস্থাটির ১ নভেম্বরের সামুদ্রিক আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর হয়ে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে এর গতিপথ, শক্তি ও উপকূলে আঘাতের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে সর্বশেষ পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করতে হবে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের প্রভাব সমুদ্রের ঢেউ, বাতাসের গতি এবং মাছ ধরার কার্যক্রমের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ছোট মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার ঝোড়ো আবহাওয়ায় বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উপকূলীয় জেলাগুলোর জেলেদের জন্য তাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। সমুদ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও সতর্কসংকেত উপেক্ষা করে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করা বিপজ্জনক হতে পারে। যেসব নৌকা ও ট্রলার বর্তমানে সমুদ্রে রয়েছে, সেগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ফিরে আসা এবং উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষকে আবহাওয়ার নিয়মিত খবর রাখতে হবে। তবে সতর্কসংকেত ১ জারি হওয়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে। এটি মূলত দূরবর্তী সমুদ্রাঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হলে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উপকূলীয় এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিরাপদে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করতে হবে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রক্রিয়ায় বাতাসের গতি, সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু একটি পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ঝড়ের চূড়ান্ত শক্তি কিংবা গতিপথ নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এদিকে সমুদ্রবন্দরগুলোতে দূরবর্তী সতর্কসংকেত ১ বহাল থাকলেও পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সংকেত বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই জেলে, নৌযানচালক, উপকূলীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

রোববার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। পরবর্তী আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিই পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেবে।


ট্যাগ: বঙ্গোপসাগরগভীর নিম্নচাপঘূর্ণিঝড়আবহাওয়া অধিদপ্তরসমুদ্রবন্দরচট্টগ্রামকক্সবাজারমোংলাপায়রাউপকূলীয় এলাকাজেলেদের সতর্কতাআবহাওয়া সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।