যুক্তরাষ্ট্রের পড়াশোনা শেষে চাকরির সুযোগে ৭০ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের!
যুক্তরাষ্ট্রের পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে চান বিদেশি শিক্ষার্থীরা। তাঁদের চাকরির সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ৭০ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করার সুযোগ পাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ফি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এই প্রস্তাবে প্রথমবার ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা অপটিপ্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থীর জন্য ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী সময়ে আবার আবেদন করলে ৩০ হাজার ডলার ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। সরকারের দাবি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অপব্যবহার কমানো এবং দেশটির কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই নতুন ফি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং যে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীকে অপটির জন্য সুপারিশ করবে, সেই প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত ফি দিতে হবে। প্রথমবার অপটির জন্য ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী অপটি আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অপটি কী, সেটি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য জানা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। এই ব্যবস্থার নাম অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা অপটি।
সাধারণত পড়াশোনা শেষ করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত এই সুযোগ পান। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করা যোগ্য শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে আরও ২৪ মাসের জন্য সময় বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন। অর্থাৎ এসব বিষয়ের শিক্ষার্থীরা মোট ৩৬ মাস পর্যন্ত কাজের অনুমতি পেতে পারেন। অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য অপটি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। পড়াশোনা শেষে চাকরি পাওয়ার পর অনেকেই এই সময়ের মধ্যে এইচ-১বি কাজের ভিসার জন্য আবেদন করেন। ফলে অপটি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবার একজন শিক্ষার্থীকে অপটির জন্য সুপারিশ করলে ৭০ হাজার ডলার দিতে হবে। ওই শিক্ষার্থীর পরবর্তী অপটি আবেদনের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে একই শিক্ষার্থীর জন্য বিভিন্ন ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হতে পারে। এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। নতুন ফি চালু হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপটি ব্যবস্থায় অনিয়ম বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করা এই প্রস্তাবের প্রধান উদ্দেশ্য। তবে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের আশঙ্কা, এত বড় অঙ্কের ফি চালু হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করার পরিকল্পনা করেন। কেউ কেউ অপটির মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি ভিসায় চাকরি চালিয়ে যেতে চান।
নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের অপটি দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই খরচ কীভাবে সামলাবে, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনোভাবে বাড়তি খরচ চাপবে কি না, কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো কতজন শিক্ষার্থীকে সুপারিশ করবে—এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত নয়। এই ফি এখনো কার্যকর হয়নি। এটি সরকারের একটি প্রস্তাব মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে। মতামত পর্যালোচনা করার পর সরকার প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অপটি আবেদনপ্রক্রিয়া ও নিয়ম বহাল থাকবে।
তাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন কিংবা ভবিষ্যতে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন—এমন শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁদের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অভিবাসনবিষয়ক ঘোষণাগুলো অনুসরণ করা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে চাকরির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই নতুন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।