সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জর্জিয়ায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, যৌন অসদাচরণের দুই অভিযোগে তদন্ত ঘিরে চাঞ্চল্যসৌদির আগুনে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির শেষ সাতজনের মরদেহ ফিরল দেশেযুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন, ইউক্রেনকে অপেক্ষা করতে হতে পারে কয়েক বছরযুক্তরাজ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে পরিবারগুলোর আয় কমবে ১,০৫০ পাউন্ড, বাড়ছে জীবনযাত্রার সংকটডেটোনার সভায় তিন দফা বাধা, বিক্ষোভকারীদের ‘অপদার্থ’ বলে তোপ দাগলেন ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে পরিবারগুলোর আয় কমবে ১,০৫০ পাউন্ড, বাড়ছে জীবনযাত্রার সংকট

নতুন পূর্বাভাসে যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষম পরিবারগুলোর ব্যয়যোগ্য আয় তিন শতাংশ কমার আশঙ্কা, মূল্যস্ফীতি, করের চাপ ও আবাসন ব্যয় বাড়াচ্ছে উদ্বেগ।

যুক্তরাজ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে পরিবারগুলোর আয় কমবে ১,০৫০ পাউন্ড, বাড়ছে জীবনযাত্রার সংকট
যুক্তরাজ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে পরিবারগুলোর আয় কমবে ১,০৫০ পাউন্ড, বাড়ছে জীবনযাত্রার সংকট

যুক্তরাজ্যে আগামী কয়েক বছরে সাধারণ কর্মক্ষম বয়সী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান আরও চাপে পড়তে পারে। নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে এসব পরিবারের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় প্রায় ১ হাজার ৫০ পাউন্ড বা ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ, সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২৯ অক্টোবর প্রকাশিত রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের ‘স্প্রেড থিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জীবনযাত্রার মান, করনীতি, সরকারি ব্যয় এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান সংসদের প্রথম ভাগে কিছু পরিবারের আয় ও জীবনযাত্রার মানে উন্নতি দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মক্ষম বয়সী পরিবারগুলোর প্রকৃত বার্ষিক ব্যয়যোগ্য আয় সংসদের পুরো মেয়াদে মোটামুটি ৬০০ পাউন্ড বাড়তে পারে। তবে এই সামান্য উন্নতির বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে সাধারণ পরিবারের আয় ১ হাজার ৫০ পাউন্ড কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগের সময়ের আয় বৃদ্ধির সুফল পরবর্তী কয়েক বছরে ম্লান হয়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির দুর্বলতা, বাড়তি করের চাপ, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য। কর্মীদের বেতন কাগজে-কলমে বাড়লেও খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহনের খরচ দ্রুত বাড়লে সেই বেতন দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয় না। অর্থনীতির ভাষায় এটিই প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া।

যুক্তরাজ্যের বাজেটবিষয়ক স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা অক্টোবরের পূর্বাভাসেও অর্থনীতির দুর্বল চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর আগে মার্চের পূর্বাভাসে এই হার ২ শতাংশ ধরা হয়েছিল। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করা হয়েছে। উচ্চ জ্বালানিমূল্য, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবাসন ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাড়িভাড়া ও ঋণের কিস্তি সাধারণ মূল্যস্ফীতির তুলনায় দ্রুত বাড়লে পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় খরচের জন্য কম অর্থ অবশিষ্ট থাকে। বিশেষ করে ভাড়াবাড়িতে বসবাসকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো এ ধরনের চাপ বেশি অনুভব করতে পারে। রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে আবাসন ব্যয় এবং করের প্রভাবকে আয় কমে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভাড়াটিয়াদের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় আবাসন ভাতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে বেসরকারি ভাড়াবাড়িতে বসবাসকারী ১০ লাখের বেশি পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব পরিবারের প্রায় ৯১ শতাংশই আয়বণ্টনের নিম্ন অর্ধেকের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ যাঁদের আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাঁদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

জ্বালানি ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা বাদ দেওয়ার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি বিল প্রায় ১ হাজার ৭৫০ পাউন্ড হতে পারে। তুলনায় ২০২২-২৩ সালের আগের জ্বালানি সংকটের সময় মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর এই ব্যয় ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৮৫ পাউন্ড। অর্থাৎ নতুন সহায়তা থাকলেও পরিবারগুলোর জ্বালানি ব্যয় আগের সংকটের সময়ের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।

সরকার অবশ্য পরিবারের ওপর চাপ কমাতে নতুন সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ঘোষিত সহায়তার মোট অর্থের প্রায় ৫২ শতাংশ নিম্ন আয়ের অর্ধেক পরিবারের কাছে যাবে। বাকি ৪৮ শতাংশ যাবে তুলনামূলক বেশি আয়ের অর্ধেক পরিবারের কাছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে, তাদের জন্য সহায়তা আরও লক্ষ্যভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশনের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত পৃথক বিশ্লেষণেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান সংসদের পুরো মেয়াদে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর গড় পরিবারের বার্ষিক ব্যয়যোগ্য আয় ৪৫০ পাউন্ড কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাবের সময়সীমা ও পরিমাপের পদ্ধতি রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের হিসাব থেকে আলাদা। তাই দুটি অঙ্ককে একই হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বেতন বাড়লেই পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় না। বেতন বৃদ্ধির তুলনায় কর, বাড়িভাড়া, ঋণের সুদ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি বাড়লে প্রকৃত আয় কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে পরিবারের খাবার কেনা, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং সঞ্চয়ের ওপর। বিশেষ করে একক উপার্জননির্ভর পরিবার এবং সন্তান থাকা পরিবারগুলো বেশি চাপে পড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ব্যয় কমানো, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে না পারলে আগামী কয়েক বছরেও জীবনযাত্রার সংকট কাটানো কঠিন হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ১ হাজার ৫০ পাউন্ড আয় কমার বিষয়টি নিশ্চিত ঘটনা নয়; এটি বর্তমান অর্থনৈতিক তথ্য ও নীতির ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস, যা ভবিষ্যতের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।


ট্যাগ: যুক্তরাজ্যব্রিটেনের অর্থনীতিপারিবারিক আয়জীবনযাত্রার ব্যয়মূল্যস্ফীতিজ্বালানি বিলআবাসন ব্যয়অর্থনৈতিক সংকটসরকারি বাজেট

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।