সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ফিলাডেলফিয়ায় কাল থেকে ভাড়াটিয়াদের নতুন সুরক্ষা, কারণ ছাড়া চুক্তি বাতিল কঠিনযুক্তরাষ্ট্রে পাসপোর্টের নামে প্রতারণা, সরকারি পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকের তথ্য হাতানোর অভিযোগ৩৭ অঙ্গরাজ্যে রেলপথ নিরাপদ করতে ১.২৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রকল্প ঘোষণাযুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া শিক্ষার্থী সেজে শিক্ষা সহায়তা চুরি, পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ প্রকাশচাকরি হারানোর ভয় কমছে, কিন্তু নতুন চাকরি পেতে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া শিক্ষার্থী সেজে শিক্ষা সহায়তা চুরি, পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ প্রকাশ

অন্যের পরিচয় চুরি করে কলেজে ভর্তির আবেদন, এরপর সরকারি শিক্ষাঋণ ও অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ! তদন্তে শনাক্ত ৮ লাখের বেশি সন্দেহজনক আবেদন-পরিচয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া শিক্ষার্থী সেজে শিক্ষা সহায়তা চুরি, পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া শিক্ষার্থী সেজে শিক্ষা সহায়তা চুরি, পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া শিক্ষার্থী সাজিয়ে সরকারি শিক্ষাঋণ ও শিক্ষা অনুদানের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। ‘অপারেশন ঘোস্টবাস্টার্স’ নামের দেশব্যাপী তদন্তের প্রথম পর্যায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কেনিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসাবে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি জব্দ করেছে তদন্তকারীরা। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিচার বিভাগ এ তথ্য প্রকাশ করে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চুরি করে তাঁদের নামে ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার আবেদন করত। এরপর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের ভুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি দেখিয়ে সরকারি অর্থের জন্য আবেদন করা হতো। শিক্ষা ঋণ ও অনুদানের অর্থ ছাড় হওয়ার পর কলেজের টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ এমন ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হতো, যেগুলো অভিযুক্ত বা তাঁদের সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এই প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, যাঁদের পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই কলেজে ভর্তি হওয়ার আবেদনই করেননি। কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা কেবল মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত, অথচ সরকারি নথিতে তাঁদের নামে দূরের কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত ব্যক্তিরা বিষয়টি জানার আগেই তাঁদের পরিচয়ে শিক্ষা ঋণ বা আর্থিক সহায়তার আবেদন তৈরি হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের নামে ঋণ বা আর্থিক দায় দেখানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে তিনটি অঙ্গরাজ্যে পৃথক মামলা বা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাগুলোর সঙ্গে নেব্রাস্কা, নিউজার্সি ও ভার্জিনিয়ার যোগসূত্র রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরি, পরিচয়সংক্রান্ত গুরুতর জালিয়াতি এবং তারের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের অবস্থা এক নয়; কারও বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রকাশিত হয়েছে, কারও ক্ষেত্রে ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নেব্রাস্কার একটি মামলায় কেনিয়ার নাগরিক ফ্রান্সিস মোগাম্বির বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরি এবং পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগে ১০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে চুরি করা মার্কিন নাগরিকদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া শিক্ষার্থী তৈরি এবং সরকারি শিক্ষাসহায়তার অর্থ নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি অংশ তিনি নিজের কাছে রাখতেন এবং বাকি অর্থ সহযোগীদের কাছে পাঠাতেন। আদালতের নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার ডলার পাওয়ার কথা একজনকে জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজার্সির মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে কেনিয়ায় থাকা সহযোগীদের সঙ্গে মিলে সরকারি শিক্ষা সহায়তার অর্থ আত্মসাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া আবেদন থেকে পাওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। পরে নির্দিষ্ট অংশ রেখে বাকি অর্থ বিদেশে পাঠানো হতো। একটি ঘটনায় একজনের হিসাবে ৩০০টির বেশি সন্দেহজনক শিক্ষার্থী হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০ লাখ ডলারের বেশি জমা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভার্জিনিয়ার একটি মামলায় একজন কেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে চুরি করা পরিচয় ব্যবহার করে ১৪ লাখ ডলারের বেশি শিক্ষা সহায়তা নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, একাধিক ব্যাংক হিসাবে ৭০০টির বেশি সন্দেহজনক অর্থ জমার ঘটনা পাওয়া গেছে। পরে হাজার হাজার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে আরও বড় পরিসরের তথ্য সামনে এসেছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তদন্তকারীরা ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৪০টি সম্ভাব্য জাল ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা পরিচয় নম্বর শনাক্ত করেছেন। এগুলোর সঙ্গে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের সহায়তার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব পরিচয় নম্বর নিষ্ক্রিয় করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত তদন্তে এফবিআই ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির তথ্য শনাক্ত করেছে; আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিচার বিভাগের অনুমান, সামগ্রিক প্রতারণার পরিমাণ ২০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে।

প্রতারণার কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কারণে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কিছু চক্র আবেদনপত্র পূরণ, অনলাইন পাঠ্যক্রম সম্পন্ন এবং ভার্চুয়াল ক্লাসে উপস্থিতির ভুয়া প্রমাণ তৈরি করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ভুয়া শিক্ষার্থীদের সক্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো সম্ভব হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে প্রতিটি মামলায় একই প্রযুক্তি বা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্মতারিখ, ঠিকানা বা পরিচয়পত্রের তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সন্তান কলেজে ভর্তি না হলেও তাঁর নামে কোনো শিক্ষা ঋণ বা আবেদন তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।

কেউ নিজের নামে অচেনা কলেজে ভর্তি, শিক্ষাঋণ বা সরকারি অনুদানের তথ্য দেখতে পেলে প্রথমে সরকারি স্টুডেন্টএইড ওয়েবসাইটে নিজের হিসাব পরীক্ষা করতে পারেন। সন্দেহজনক ঋণ বা আবেদন পাওয়া গেলে শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং পরিচয় চুরির অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করে অচেনা ঋণ বা হিসাবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট ব্যুরোতে আপত্তি জানানো উচিত। পরিচয় চুরির শিকার হলে সরকারি পরিচয় চুরি সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমেও করণীয় জানা যায়।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অপারেশন ঘোস্টবাস্টার্সের তদন্ত এখনো চলছে। এফবিআইয়ের ২৬টি মাঠপর্যায়ের কার্যালয় এবং একাধিক ফেডারেল আইনজীবী দপ্তর এ কাজে যুক্ত রয়েছে। কেনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহযোগিতায় অর্থ উদ্ধার ও বিদেশে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় শুধু সরকারি অর্থের অপব্যবহার নয়, নিরপরাধ মানুষের পরিচয় চুরি এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও সামনে এসেছে। প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা যাতে প্রতারকদের হাতে না যায়, সে জন্য আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিচয় চুরির শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাঁদের নামে তৈরি ভুয়া ঋণ বা আবেদন বাতিলের ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


ট্যাগ: িক্ষা সহায়তা জালিয়াতিপরিচয় চুরিভুয়া শিক্ষার্থীসরকারি শিক্ষাঋণশিক্ষা অনুদান আত্মসাৎযুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগফেডারেল তদন্তঅপারেশন ঘোস্টবাস্টার্সআর্থিক প্রতারণা

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।