চাকরি হারানোর ভয় কমছে, কিন্তু নতুন চাকরি পেতে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার নতুন আবেদন কমে ১ লাখ ৯৪ হাজারে নেমেছে। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন কাজ খুঁজে পাওয়া এখনো সহজ হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদন কমে গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার প্রাথমিক আবেদন করেছেন মৌসুমি সমন্বয়ের পর প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার মানুষ। আগের সপ্তাহের সংশোধিত সংখ্যার তুলনায় আবেদন কমেছে ১ হাজার। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান দেশটির শ্রমবাজারে কর্মী ছাঁটাই তুলনামূলক কম থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চাকরি হারানোর আবেদন কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে নতুন চাকরি পাওয়া সহজ হয়ে গেছে।
শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার প্রাথমিক আবেদনের চার সপ্তাহের গড় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫০। আগের চার সপ্তাহের গড়ের তুলনায় এটি ১ হাজার ২৫০ কম। এক সপ্তাহের তথ্যের ওঠানামা অনেক সময় সাময়িক হতে পারে। তাই অর্থনীতিবিদেরা চার সপ্তাহের গড়কেও গুরুত্ব দেন। এতে শ্রমবাজারের সামগ্রিক প্রবণতা সম্পর্কে তুলনামূলক স্থিতিশীল ধারণা পাওয়া যায়।
বেকারত্ব ভাতার আবেদন সাধারণত কোনো কর্মী চাকরি হারানোর পর সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদন করলে হিসাব করা হয়। ফলে এই সংখ্যা শ্রমবাজারে ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে এটি মোট বেকার মানুষের সংখ্যা নয়। যারা চাকরি খুঁজছেন কিন্তু বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেননি, কিংবা যারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁরা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারেন।
সর্বশেষ তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে চাকরি হারানোর ঘটনা কম থাকলেও নিয়োগের গতি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল। চলতি বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬৮ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে নতুন কর্মসংস্থান ছিল মাত্র ২৯ হাজার। ২০২৫ সালে মাসিক গড় নতুন কর্মসংস্থান ছিল প্রায় ৯ হাজার ৭০০। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির গড় উন্নত হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিয়োগের গতি কমেছে।
অর্থনীতিবিদেরা শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিকে অনেক সময় ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ ধরনের অবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে কর্মী ছাঁটাই করছে না, কিন্তু নতুন কর্মী নিয়োগেও খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, পরিচালন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে সদ্য পড়াশোনা শেষ করা তরুণ, অভিবাসী কর্মী, চাকরি পরিবর্তন করতে চাওয়া মানুষ এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর। কোনো কর্মী চাকরি হারালে নতুন পদে আবেদন করতে গিয়ে বেশি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে অভিজ্ঞতা কম থাকা প্রার্থীদের জন্য প্রথম চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে কোন খাতে কতটি পদ খালি রয়েছে, তা জানতে আলাদা নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য দেখা প্রয়োজন।
চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদেরও চাকরির বাজার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। যাঁরা রেস্তোরাঁ, হোটেল, পরিবহন, গুদাম, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা কিংবা দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত, তাঁদের ক্ষেত্রে স্থানীয় নিয়োগ পরিস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মী চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ। তবে জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্ব ভাতার আবেদন কমেছে বলে কোনো নির্দিষ্ট শহর বা পেশায় চাকরির সুযোগ বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরকারি কর্মসংস্থান কেন্দ্র, স্থানীয় নিয়োগ মেলা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরির ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা উপকারী হতে পারে। আবেদন করার আগে কাজের দায়িত্ব, বেতন, কর্মঘণ্টা, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং নিয়োগদাতার পরিচয় যাচাই করা উচিত। চাকরি দেওয়ার নামে আগাম অর্থ, ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য কিংবা সংবেদনশীল পরিচয়পত্রের তথ্য চাওয়া হলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এদিকে বেকারত্ব ভাতার আবেদন কমলেও কতজন মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বেকার রয়েছেন, কতজন নতুন কাজ পাচ্ছেন এবং কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে—এসব জানতে আরও বিস্তৃত শ্রমবাজারের তথ্য প্রয়োজন। শ্রম বিভাগের পরবর্তী সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার প্রতিবেদন ৫ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। আর অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৬ নভেম্বর।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।