যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এক লাখ ডলারের ফি আটকে দিলেন আদালত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছেন আদালত। স্বস্তিতে নিয়োগকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের চাকরির সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত এসেছে। দেশটিতে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসায় এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি আদায়ের সরকারি সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। এতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আপাতত স্বস্তি পেয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক হেওয়ুড গিলিয়াম জুনিয়র এই সিদ্ধান্ত দেন। আদালত সরকারের নেওয়া সংশ্লিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করা পর্যন্ত এটি কার্যকর করতে নিষেধ করেছেন। এর আগে ২০২৬ সালের জুন মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ফেডারেল আদালত একই ধরনের এক লাখ ডলারের ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছিলেন। ফলে এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো আদালতের বাধা তৈরি হলো।
এইচ-১বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কর্মভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশি দক্ষ কর্মীদের চাকরিতে নিয়োগ দিতে পারে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা ও গবেষণার মতো ক্ষেত্রে এই ভিসার ব্যবহার বেশি। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এইচ-১বি কর্মীদের নিয়ে এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নীতি ঘোষণা করেছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল, নির্দিষ্ট নতুন আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তে সেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এত বড় আর্থিক বাধ্যবাধকতা চালুর আগে সরকারকে যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চায়, তাদের ওপর অতিরিক্ত এক লাখ ডলারের বোঝা আপাতত চাপছে না। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্যও খবরটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী প্রথমে কাজের অনুমতি পান এবং পরে কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করেন। নতুন ফি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি। আদালত এইচ-১বি ভিসার সব ধরনের ফি বাতিল করেননি। শুধু নির্দিষ্ট এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সরকারি নীতিতে বাধা দিয়েছেন। ভিসার অন্যান্য নিয়মিত আবেদন ফি ও শর্ত আগের মতোই বহাল রয়েছে।
এ ছাড়া এক লাখ ডলারের ফি এবং সরকারের প্রস্তাব করা ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের আলাদা ফি এক বিষয় নয়। এগুলো আলাদা প্রস্তাব ও নীতিগত বিষয়। তাই কোন ফি কার্যকর হয়েছে, তা জানতে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করা জরুরি। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির স্বপ্ন দেখা আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে মামলার পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।