অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ইরান যুদ্ধের ব্যয় ৪৭.১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ
পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও অভিযান পরিচালনায় বাড়ছে ব্যয়।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বেড়ে ৪৭.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পেন্টাগনের কংগ্রেসে জমা দেওয়া হিসাবের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের ব্যয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের জুলাই মাসে দেওয়া ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলনের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘাতটি দীর্ঘায়িত হয়েছে। যুদ্ধের আর্থিক চাপ, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এখন মার্কিন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে।
যুদ্ধের ব্যয়ের প্রধান তিনটি খাত
পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহের জন্য।
প্রথমত, ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানার অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় সেগুলো পুনরায় সংগ্রহের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, হারানো সামরিক সরঞ্জাম ও প্ল্যাটফর্ম প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৬.১ বিলিয়ন ডলার। এই খাতে বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সম্পদের ক্ষতির হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তৃতীয়ত, সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ১১.৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সেনাসদস্যদের সহায়তা, বিমান পরিচালনা, পরিবহন, নৌবাহিনীর কার্যক্রম এবং অন্যান্য সামরিক পরিষেবার খরচ রয়েছে।
তবে এই হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোর মেরামতের সম্পূর্ণ ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে যুদ্ধের সামগ্রিক আর্থিক বোঝা আরও বাড়তে পারে।
মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ
যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিস্থাপন ব্যয়বহুল।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু বর্তমান অভিযানের খরচই বাড়বে না, ভবিষ্যতে অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার জন্যও অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। নতুন অস্ত্র উৎপাদন, সরবরাহ এবং সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় মজুত করতে প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইরানের সক্ষমতা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করে আসছেন। আপনার সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ইরানের ড্রোন উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার কথাও বলেছেন।
তবে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই ছাড়া ইরানের ড্রোন উৎপাদন বা ক্ষেপণাস্ত্রের বর্তমান মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। যুদ্ধের প্রকৃত সামরিক প্রভাব নির্ধারণে উভয় পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি স্বাধীন গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও যাচাইযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ
আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধের ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আর্থিক ও জ্বালানিসংক্রান্ত প্রভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে।
যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইনপ্রণেতাদের সামনে এখন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার খরচ, অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন এবং দেশের অন্যান্য প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ও পরিবহনপথ নিয়ে উদ্বেগ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়।
জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পরিবহন, উৎপাদন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব সামরিক বাজেটের বাইরেও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ৪৭.১ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাব ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান আর্থিক বোঝা তুলে ধরেছে। তবে যুদ্ধের চূড়ান্ত ব্যয় নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন চলবে, সামরিক ক্ষয়ক্ষতি কতটা বাড়বে এবং কূটনৈতিক সমাধানের কোনো পথ তৈরি হয় কি না—তার ওপর

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের সমাবেশ, ভোট চাইলেন রিপাবলিকানদের পক্ষে

যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি, নতুন তথ্য জানাবেন কর্মকর্তা জানিস উইনফ্রে

ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করলেন ফেডারেল বিচারক



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।