সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফায় লাখো মানুষের খাবার, দুর্নীতির অভিযোগে সরব হিলারি ক্লিনটননিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানানাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামলকম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কারবাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে আহ্বান তারেক রহমানের, পোশাকশিল্পে নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আইসের সহযোগিতা আট মাসে দ্বিগুণ, বাড়ছে অভিবাসন অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আইসের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা বেড়েছে। নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আইসের সঙ্গে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সহযোগিতা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আইসের সঙ্গে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সহযোগিতা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত আট মাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের অধীনে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পাওয়া স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সদস্যসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অভিবাসননীতি নিয়ে কাজ করা সংস্থা এফডব্লিউডি.ইউএসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২৯ হাজারের বেশি স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সদস্যকে আইসের কর্মসূচির আওতায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা আইসের নিজস্ব বহিষ্কার কার্যক্রমে নিয়োজিত প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কর্মকর্তার সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।

স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আইসের সহযোগিতার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ২৮৭(জি) কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের এই বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সদস্যদের অভিবাসন আইন প্রয়োগের কিছু দায়িত্ব দেওয়া যায়। প্রশিক্ষণ ও অনুমোদনের ভিত্তিতে এসব কর্মকর্তা আটক ব্যক্তিদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারেন।

তবে সব চুক্তির ক্ষমতা এক রকম নয়। কোনো কোনো চুক্তিতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব মূলত কারাগারে আটক ব্যক্তিদের অভিবাসন অবস্থা যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার কিছু চুক্তির আওতায় প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময়ও নির্দিষ্ট অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা পান। ফলে কোন এলাকায় কী ধরনের সহযোগিতা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে।

২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২৮৭(জি) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত অভিযানে ৪৭ হাজারের বেশি অভিবাসন গ্রেপ্তার হয়েছে। ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে সম্মিলিতভাবে এসব গ্রেপ্তারের উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির আওতায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ফেডারেল অর্থায়ন ও বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনাও ভূমিকা রাখছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অংশগ্রহণকারী পুলিশ বিভাগগুলো সরঞ্জাম ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য সহায়তা পেতে পারে। ফলে আরও বেশি পুলিশ বিভাগ এই কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আইসের সহযোগিতা বাড়ার বিষয়টি অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় স্থানীয় পুলিশ অভিবাসন আইন প্রয়োগে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে, সেখানে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ, ট্রাফিক থামানো কিংবা অন্য কোনো ঘটনায় পুলিশের মুখোমুখি হলে অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হতে পারে কি না, তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।

তবে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আইসের চুক্তি থাকলেই সব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হবে, এমন নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইন, পরিস্থিতি এবং কর্মকর্তাদের আইনগত ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব অভিবাসীর আইনি অবস্থাও এক নয়। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, ভিসাধারী, আশ্রয়প্রার্থী এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি জানা গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পরিস্থিতি তৈরি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নির্দেশনা এবং নির্ভরযোগ্য আইনগত পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এই কর্মসূচির সমর্থকদের মতে, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পক্ষে অভিবাসন আইন প্রয়োগ সহজ হয়। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন প্রয়োগে যুক্ত করলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে অপরাধের শিকার হওয়া কিছু মানুষ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতেও ভয় পেতে পারেন।

এ ছাড়া গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি, আটক ব্যক্তির অধিকার, তথ্য আদান-প্রদানের সীমা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহর এ বিষয়ে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করছে। কোথাও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে, আবার কোথাও স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন প্রয়োগে যুক্ত করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সদস্যদের আইসের কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে অভিবাসন অভিযান, স্থানীয় পুলিশের দায়িত্ব এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয়।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রেরখবরঅভিবাসনস্থানীয়পুলিশপ্রবাসীসংবাদ

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।