সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
পথচারীর সাহসে অপহরণচেষ্টা থেকে প্রাণে বাঁচল সাত বছরের শিশু নিরাপদএম্পায়ার স্টেট ভবনে ওঠা রুশ যুগলের মামলায় সমঝোতার আভাস, আদালতে হাজিরা ১২ নভেম্বরপ্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো, দাবি নতুন নির্বাচনেরলাস ভেগাসে কাজে গিয়ে চার সন্তানকে একা রেখে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার মামন্টানায় শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, ১০ মাসের তদন্তেও গুরুতর অভিযোগ আনছে না কর্তৃপক্ষ্য

প্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো, দাবি নতুন নির্বাচনের

নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী মাচাদো, তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন হাজারো সমর্থক, এবার অবাধ নির্বাচনের দাবিতে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ।

প্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো, দাবি নতুন নির্বাচনের
প্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো, দাবি নতুন নির্বাচনের

দীর্ঘ প্রায় এক বছর দেশের বাইরে থাকার পর নিজ দেশে ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী ও ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গত ২৫ অক্টোবর, রবিবার, তাঁর দেশে ফেরার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। দেশে ফিরে তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে চান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং এএফপির প্রতিবেদনে তাঁর ফিরে আসার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, ‘আমি এখানে, আপনাদের সঙ্গে।’ তাঁর এই বার্তার পর ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফেরার ঘটনা নয়; এটি দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা, নির্বাচন এবং ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে চলমান বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত।
২৫ অক্টোবর পশ্চিমাঞ্চলীয় লারা প্রদেশের বারকিসিমেতো এলাকায় একটি গির্জায় তাঁকে দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান। অনেকে জাতীয় সংগীত গেয়ে এবং স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দিয়ে তাঁদের সমর্থন প্রকাশ করেন। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে রাজধানী কারাকাসের দিকে যাত্রা করেন। পথে বিভিন্ন স্থানে মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসমাগমের কারণে রাজধানীর দিকে তাঁর যাত্রায় প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগে।

মাচাদোর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেনেজুয়েলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতা এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়া। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মাচাদো দেশের মাটিতে ফিরেছেন এবং শিগগিরই তাঁর পাশে থাকবেন। গনসালেস বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে তাঁরা কবে, কোথায় এবং কীভাবে যৌথভাবে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করবেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত সময়সূচি পাওয়া যায়নি।
মাচাদো কেন দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন, তা বুঝতে হলে ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটের দিকে তাকাতে হয়। দেশটির ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মাচাদো বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। তবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তিনি পাননি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক ও আইনি বাধার মাধ্যমে তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছিল।
২০২৫ সালে মাচাদো দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যান। নোবেল কমিটি তাঁকে ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কার প্রদান করে। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরেও নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি তাঁর দেশে ফেরার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, তাঁর উপস্থিতি গণতন্ত্রপন্থী বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে।

মাচাদোর দেশে ফেরার আগে একাধিকবার তাঁর প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা জানিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে দেশে ফেরার চেষ্টা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে কীভাবে এবং কোন পথে তিনি শেষ পর্যন্ত দেশে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে তাঁর দলের পক্ষ থেকে সব বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি পানামা থেকে কলম্বিয়া হয়ে স্থলপথে ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই যাত্রার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
দেশে ফেরার পর মাচাদোর সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন হলো, ভেনেজুয়েলায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কবে হবে এবং সেই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক পক্ষ কতটা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি মাদুরোর সরকারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব গ্রহণ করেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মাচাদোর প্রত্যাবর্তন দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাঁর সমর্থকেরা চান, জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসুক এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। বিরোধী শিবিরের নেতারা অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে দেশে ফিরে মাচাদো কতটা স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারবেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাচাদোর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে প্রথমে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। একই সঙ্গে তিনি মাচাদোর নিরাপত্তা নিয়ে আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২৬ অক্টোবর জানান, মাচাদোকে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কয়েক সপ্তাহ আগেই ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষকে মাচাদোকে দেশে ফিরতে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
এই বক্তব্যগুলো থেকে বোঝা যায়, মাচাদোর প্রত্যাবর্তনের পেছনে কূটনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে তাঁর ফেরার প্রতিটি পদক্ষেপে কারা সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে। রয়টার্স সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র, পানামা ও কলম্বিয়ার সঙ্গে প্রত্যাবর্তনের সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যে তিনি শুরুতে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না থাকার কথা বলেছিলেন। তাই প্রত্যাবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সব পক্ষের বক্তব্যকে একই রকম নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
মাচাদোর দেশে ফেরার বিষয়টি নোবেল কমিটির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে কমিটি তাঁর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে তারা জানায়, ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অবাধ নির্বাচনের প্রয়োজন এখনো জরুরি। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, একজন বিরোধী নেত্রীর দেশে ফেরার মধ্য দিয়েই দেশটির গণতান্ত্রিক সংকটের সমাধান হয়ে যায়নি। নির্বাচনের নিয়ম, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আরও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

মাচাদোর প্রত্যাবর্তনের পরবর্তী প্রভাব নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে কি না। দ্বিতীয়ত, বিরোধী নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাস্তব সুযোগ পান কি না। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, নাগরিক অধিকার এবং বিরোধী দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনে কী ভূমিকা রাখে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
এদিকে, মাচাদোর সমর্থকদের উপস্থিতি এবং তাঁকে ঘিরে জনসমাগম বিরোধী আন্দোলনের দৃশ্যমান শক্তি তুলে ধরেছে। কিন্তু জনসমাগমের আকার দিয়ে পুরো দেশের রাজনৈতিক মতামত নির্ধারণ করা যায় না। ভেনেজুয়েলার জনগণের রাজনৈতিক পছন্দ বুঝতে হলে বিশ্বাসযোগ্য জনমত জরিপ, অবাধ নির্বাচন এবং স্বচ্ছ ভোট গণনার মতো প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।


ট্যাগ: মারিয়া কোরিনা মাচাদোভেনেজুয়েলানোবেল শান্তি পুরস্কারবিরোধী দলঅবাধ নির্বাচনদেলসি রদ্রিগেজনিকোলাস মাদুরোএদমুন্দো গনসালেসআন্তর্জাতিক রাজনীতিগণতন্ত্র

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।