সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
লাস ভেগাসে কাজে গিয়ে চার সন্তানকে একা রেখে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার মামন্টানায় শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, ১০ মাসের তদন্তেও গুরুতর অভিযোগ আনছে না কর্তৃপক্ষ্যযুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কৃত বাংলাদেশি নন, মালির নাগরিককে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, সমকামিতার দাবি তুলে আইসিইর নতুন অভিযোগক্যালগারির মসজিদের ইমামকে ঘিরে বিতর্ক, যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো যৌন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস, কংগ্রেসে ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় রিপাবলিকানরা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করে তোপ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের নীতিকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, তবে তাঁর দাবির কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করে তোপ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করে তোপ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দেখা দিলেই জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং ডেমোক্র্যাটদের জ্বালানিনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের পরিস্থিতির সামনে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। তবে তাঁর বক্তব্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে তথ্য যাচাইকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন।
২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম পলিটিফ্যাক্টের তথ্য যাচাই এবং ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত মিশিগানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্রিজ মিশিগানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জ্বালানির দাম নিয়ে ভ্যান্সের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান নেতারা উচ্চমূল্যের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, বর্তমান প্রশাসনের নীতি ও আন্তর্জাতিক সংঘাতও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিদেশি নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। তাঁর দাবি, ১৯৭০-এর দশক থেকেই এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাটরা একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে তাঁদের নীতিই যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।
ভ্যান্সের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন ও পরিশোধনব্যবস্থা শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব কমানো। তাঁর মতে, দেশে আরও বেশি তেল উত্তোলন, শোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে বিদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন নাগরিকদের বারবার বাড়তি মূল্য দিতে হবে না।
তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারের বাস্তবতা আরও জটিল। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য, পরিবহনব্যয়, শোধনাগারের কার্যক্রম, চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশটির জ্বালানির দামকে প্রভাবিত করে। ফলে দেশে তেল উৎপাদন বেশি থাকলেই আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয় না।

মধ্যপ্রাচ্য এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তখন ভবিষ্যতে তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও জ্বালানিপণ্য পরিবহনে বিঘ্ন আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। একই সময়ে বিকল্প সরবরাহের খোঁজে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের তৎপরতা বেড়েছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগার ও জ্বালানিপণ্যের রপ্তানিতেও পড়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সঙ্গে জ্বালানির দামের সম্পর্ক বাস্তব। তবে সংঘাতের কারণে দাম বাড়ার বিষয়টি এবং কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নীতির কারণে দাম বাড়ার বিষয়টি এক নয়। প্রথমটির পক্ষে বাজারের বাস্তব প্রমাণ রয়েছে; দ্বিতীয়টি প্রতিষ্ঠা করতে হলে উৎপাদন, পরিশোধন, আমদানি, সরবরাহ ও সরকারি নীতির পৃথক প্রভাব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
ভ্যান্স এর আগে দাবি করেছিলেন, বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং এর ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের সামনে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু পলিটিফ্যাক্টের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত যাচাইয়ে এই দাবিকে অসত্য বলে মূল্যায়ন করা হয়। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পুরো দেশের পরিশোধন সক্ষমতার ২০ শতাংশ হারিয়ে যাওয়ার দাবি সঠিক নয়। বরং ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিশোধন সক্ষমতা কমার বিষয়টি জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্যে শোধনাগার বন্ধ হওয়া এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন সক্ষমতা একই হারে কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে শোধনাগারের সংখ্যা, উৎপাদনক্ষমতা ও উৎপাদিত জ্বালানির ধরন আলাদা। ফলে একটি অঞ্চলের পরিবর্তন দিয়ে গোটা দেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব একেবারে নেই, এমনটিও বলা যায় না। পরিবেশনীতি, নতুন শোধনাগার নির্মাণের অনুমোদন, জ্বালানি অনুসন্ধান, পরিবহন অবকাঠামো এবং বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ, বাজারে সম্ভাব্য মুনাফা, ভোক্তাদের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে পলিটিফ্যাক্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান জ্বালানির উচ্চমূল্যের অন্যতম প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি ও পরিবহন অবকাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিশোধন সক্ষমতার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে রিপাবলিকানদের বক্তব্যের জবাবে ডেমোক্র্যাট নেতারা বর্তমান প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করছেন। তাঁদের যুক্তি, সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানির দাম কমিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেই তা বাস্তবে নিশ্চিত হয় না। আন্তর্জাতিক সংঘাত, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং জ্বালানিবাজারের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রশাসনেরও রয়েছে। তাই অতীতের প্রশাসনকে দায়ী করে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
জ্বালানির দাম যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পেট্রল বা গ্যাসোলিনের দাম বাড়লে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পণ্য সরবরাহের খরচও বাড়তে পারে। এর প্রভাব খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অন্যান্য পরিষেবার দামের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন, তাঁদের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও জ্বালানির দাম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলই নিজেদের নীতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে এবং প্রতিপক্ষের নীতিকে দায়ী করছে।


ট্যাগ: জেডি ভ্যান্সযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিজ্বালানির দামমধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতডেমোক্র্যাটরিপাবলিকানডোনাল্ড ট্রাম্পজো বাইডেনতেলবাজারতথ্য যাচাইমার্কিন নির্বাচন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।